ভূমিকা: ভাবী-জামাই নিয়ে সাধারণত জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে ঘটল ঠিক উল্টো। দুই বোন একে অপরের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এমন অভিনব দাবি শুনে হতভম্ব বিচারকও!
ভারতের মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চে সোমবার শোনা গেল এক অভিনব দাবি। দুই সহোদর বোন আদালতে জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের স্বামী ছেড়ে একে অপরের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান। অর্থাৎ বড় বোন যাবেন ছোট বোনের স্বামীর কাছে, আর ছোট বোন চান বড় বোনের স্বামীকে!
ঘটনার শুরুটা অবশ্য অন্যরকম। দতিয়ার এক ব্যক্তি আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও মেয়েকে তাঁর ভাইয়ের ছেলে (ভায়রাভাই) অপহরণ করেছে। আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয় ওই নারী ও অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করতে।
পুলিশ যখন তাদের আদালতে হাজির করল, তখন চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ‘অপহৃত’ সেই নারী আদালতকে বলেন, তিনি কেউ তাকে অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় বোনের স্বামীর কাছে গেছেন এবং তাঁর সঙ্গেই থাকতে চান। তিনি আরও বলেন, তার নিজের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় এবং তিনি ইতিমধ্যে ডিভোর্সের মামলাও করেছেন।
অথচ এখানেই শেষ নয়! অপর বোন (অর্থাৎ যে নারীর স্বামীর কাছে বোন গেছেন) আদালতে বলেন, তিনিও নিজের স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান না। বরং তিনি বোনের স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান।
অর্থাৎ, দুই বোনের ইচ্ছা পরস্পরের স্বামী বদল করে নেওয়ার। তাঁরা আদালতের কাছে এ বিষয়ে আইনি অনুমতি চান।
এমন দাবি শুনে বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংশ্লিষ্ট সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এটা অপহরণের মামলা নয়, বরং পারিবারিক বিরোধ। আদালত বলেন, তাঁরা চাইলে নিজেরা আলোচনা করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত হেবিয়াস কর্পাস আবেদনটি খারিজ করে দেন বিচারক। এই অস্বাভাবিক ঘটনা ইতিমধ্যে এলাকায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কেউ বলছেন নাটকীয়তা, কেউ বলছেন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
