ইস্তানবুল: এবার তুরস্কের তৈরি এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করা হলো, যা শব্দের গতির চেয়েও ২৫ গুণ বেশি দ্রুত ছুটতে পারে! দেশটি প্রথমবারের মতো তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘ইয়িলদিরিমহান’ জনসমক্ষে নামিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) ইস্তানবুলের আন্তর্জাতিক সাহা এক্সপো মেলায় এই প্রথম প্রদর্শন করা হয় অত্যাধুনিক এই অস্ত্র।

অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম আর আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক খোদাই করা ক্ষেপণাস্ত্রটির নামের অর্থ ‘বজ্রের শাসক’। তুর্কি ভাষায় ‘ইয়িলদিরিম’ মানে বজ্র, আর ‘হান’ মানে শাসক।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানান, এটি তুরস্কের প্রথম তরল জ্বালানি-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যেখানে হাইপারসনিক প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে। তার দাবি, এখন পর্যন্ত তুরস্কের তৈরি সবচেয়ে লম্বা পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এটি।

প্রদর্শনীতে দেওয়া তথ্য বলছে, ইয়িলদিরিমহানের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার। এতে আছে চারটি রকেট ইঞ্জিন। আর এর গতি শব্দের চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি! জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড।

ড্রোন আর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে তুরস্ক এখন অনেক দূর এগিয়েছে। তার বড় জোর প্রমাণ এই আইসিবিএম।

এর আগে গত বছর জুলাইয়ে ইস্তানবুলের আরেক মেলায় তুরস্ক ‘টাইফুন ব্লক-৪’ নামের ১০ মিটার লম্বা আর সাড়ে সাত টন ওজনের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছিল। সেটিকেও দেশটির সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বলা হচ্ছিল।

তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকেটসান বলছে, টাইফুন সিরিজের অন্যান্য মডেলের ন্যূনতম পাল্লা ২৮০ কিলোমিটার হলেও ধারণা করা হচ্ছে, টাইফুন ব্লক-৪ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। আর রকেটসানের তৈরি ‘জাংক’ নামের আরেকটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার।

জেনে রাখা ভালো, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানিতে নানা বিধিনিষেধ আছে। তুরস্কও এমন কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতেই অনেক সময় প্রকৃত পাল্লা কম দেখানো হয়।

আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম এতটাই শক্তিশালী যে সেটা খুব দীর্ঘ দূরত্ব থেকে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে। একসঙ্গে একাধিক ওয়ারহেড নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন টার্গেটও ধ্বংস করতে পারে।

বিশ্বে বর্তমানে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন-সহ কয়েকটি দেশের কাছে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, উত্তর কোরিয়া, ইসরাইল ও ইরানের কাছেও সীমিত সংখ্যায় আইসিবিএম আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হয় ৩০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু আইসিবিএম ছুটতে পারে ১০ হাজার কিলোমিটার বা আরও বেশি দূর!

 

news