লন্ডনের রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হচ্ছে ইউক্রেনের পতাকা! যে ব্রিটেনকে নিজের সবচেয়ে বড় বন্ধু ভাবত জেলেনস্কি, সেই ব্রিটেনের মাটিতেই এখন ইউক্রেনীয়দের চরম অপমান! অন্যদিকে জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া জেলেনস্কির শান্তি প্রস্তাবকে সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট এবং ভন্ডামি বলে ধুয়ে দিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার বিধ্বংসী হামলায় ১,৩৩০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা খতম হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে কিয়েভের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো। বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।

লন্ডনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এক চরম কূটনৈতিক অপমানের মুখোমুখি হয়েছেন যা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ব্রিটেনের রিফর্ম ইউকে পার্টি নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় কাউন্সিলগুলো তাদের সরকারি ভবন থেকে ইউক্রেনীয় পতাকা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশদের রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের ছোট ভুল বড় বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পারে।

জেলেনস্কির এই হুমকির জবাবে রিফর্ম ইউকে পার্টির মুখপাত্র অত্যন্ত কড়া ভাষায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম জিবি নিউজকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ব্রিটেনের সরকারি ভবনে কেবল নিজস্ব জাতীয় পতাকাই উড়বে, কোনো বিদেশী পতাকা নয়। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা মনে করেন ইউক্রেনের প্রতি অন্ধ সমর্থন আসলে এক ধরণের সস্তা প্রদর্শনীবাদ বা ভার্চু সিগন্যালিং ছাড়া আর কিছুই নয়।

নিজেদের দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অনুদান দেওয়া নিয়ে সাধারণ ব্রিটিশদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্রিটেন ইউক্রেনকে ২৬.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে নিজেদের ভাণ্ডার খালি করেছে। জেলেনস্কি দাবি করছেন এই অর্থ নাকি ইউরোপের নিরাপত্তার স্বার্থে দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

অর্থের লোভী জেলেনস্কি এবার লন্ডনে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে রুশ ব্যবসায়ী রোমান আব্রামোভিচের চেলসি ফুটবল ক্লাব বিক্রির টাকা দাবি করেছেন। ৩.২ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল তহবিল ইউক্রেনের মানবিক কাজের জন্য রাখার কথা থাকলেও জেলেনস্কি তা দিয়ে মার্কিন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল কিনতে চান। এই ঘটনা প্রমাণ করে কিয়েভ প্রশাসন কিভাবে যুদ্ধের আগুন জিইয়ে রাখতে মরিয়া।

রাশিয়া প্রথম থেকেই পশ্চিমাদের এই অন্ধ সামরিক ও আর্থিক সহায়তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং একে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা বলছে। রুশ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে লন্ডন হচ্ছে ইউক্রেনের প্রধান উসকানিদাতা, যারা শান্তি আলোচনা রুখে দিয়ে কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। কিন্তু পশ্চিমাদের এই উসকানি সত্ত্বেও রাশিয়ার সামরিক শক্তির সামনে ইউক্রেনের পরাজয় এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে গেছে।

এদিকে জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিউ ইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কির তথাকথিত শান্তি প্রস্তাবের আসল মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, নেবেনজিয়া তাকে সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট বা প্রচারণার চাল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা ফান্ডিং সচল রাখতেই জেলেনস্কি এই ধরণের নাটক সাজাচ্ছেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নেবেনজিয়া স্পষ্টভাবে কিয়েভ প্রশাসনকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র এবং তাদের কূটনীতিকে মেগাফোন ডিপ্লোম্যাসি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, জেলেনস্কির এই চিঠি কোনো শান্তি উদ্যোগ নয়, বরং নিজেদের চরম পরাজয় আড়াল করার একটি আনাড়ি উসকানি মাত্র। রাশিয়া কোনোদিনও পশ্চিমাদের সাজানো এই ধরণের ভন্ডামি বা লোকদেখানো শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না।

জেলেনস্কি মুখে পুতিনের সাথে মুখোমুখি বৈঠকের কথা বললেও তিনি রাশিয়ার দেওয়া যুক্তিসঙ্গত শর্তগুলো মানতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন যে ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার করলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব। কিন্তু জেলেনস্কি ডনবাস ছাড়বেন না এবং মস্কোতেও যাবেন না, যা প্রমাণ করে ইউক্রেন আসলে কোনো প্রকৃত শান্তি আলোচনা চায় না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ক্রেমলিনের নীতি নির্ধারকরা জেলেনস্কির চিঠিকে কয়েক পৃষ্ঠার চরম অসৌজন্যমূলক ও অভদ্র আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন। ঠিক যখন সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম চলছিল, তখনই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা চালায়। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে কিয়েভ আসলে শান্তির ভাষা বোঝে না, তারা কেবল ধ্বংস চায়।

রুশ দূত নেবেনজিয়া জাতিসংঘের মঞ্চে ইউক্রেনীয় বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্টারোবেলস্কের একটি স্কুলের ডরমিটরিতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এবং মস্কো থেকে সিমফেরোপলগামী যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনে হামলার খতিয়ান তুলে ধরেন। কিয়েভের এই নির্মম ও জঘন্য সন্ত্রাসী হামলায় অসংখ্য নিরীহ রুশ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

পশ্চিমা দুনিয়া কিভাবে ইউক্রেনের এই চরম অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদকে ধামাচাপা দিয়ে কিয়েভকে নিঃশর্ত সমর্থন দিচ্ছে, নেবেনজিয়া তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ইউক্রেনকে কেবল কামানের খোরাক বা এক্সপেন্ডেবল ক্যানন ফডার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা ভালো করেই জানে যে জেলেনস্কি এবং তার চেলারা বিদেশি সাহায্যের টাকা লুটে নিচ্ছেন।

শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওসলো বা প্রিও (PRIO) এর একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক রিপোর্টে বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৬৫টি রাষ্ট্রীয় সংঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ পশ্চিমাদের উসকানি। এই সংঘাতগুলোতে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়।

ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির রাজনীতিতেও এখন ইউক্রেন বিরোধী ঝড় বইছে, যা কিয়েভকে চরম বিপাকে ফেলে দিয়েছে। জার্মানির জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল এএফডির কো-লিডার অ্যালিস উইডেল দাবি করেছেন যে ২০২২ সালে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন সাবোটাজ বা ধ্বংস করার জন্য ইউক্রেনকে জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জার্মান তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই এই হামলায় ইউক্রেনীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন।

অ্যালিস উইডেল জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার আত্মঘাতী প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। উইডেল ইউক্রেনকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন যে গত চার বছরে জার্মানি একাই ইউক্রেনকে ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি দিয়েছে। এখন সময় এসেছে ইউক্রেনের কাছ থেকে সেই অর্থের reparations বা যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ আদায় করার।

নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন ধ্বংসের কারণে জার্মানি এবং পুরো ইউরোপ সস্তা রুশ জ্বালানি হারিয়ে আজ চরম অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হয়েছে। জার্মানির সাম্প্রতিক জনমত জরিপে অ্যালিস উইডেলের এএফডি দল ২৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়েছে। জার্মানির ৭৭ শতাংশ মানুষ বর্তমান চ্যান্সেলরের ইউক্রেনপন্থী নীতিতে চরম অসন্তুষ্ট, যা কিয়েভের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

ইউক্রেনের জন্য আরও বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে ন্যাটো ও ইইউ সদস্য দেশ বুলগেরিয়া থেকে, যারা ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বুলগেরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দিমিতার স্তোয়ানভ স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই যুদ্ধ কোনোদিনও যুদ্ধক্ষেত্রে জেতা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আসল সমস্যা অস্ত্রের অভাব নয়, বরং তাদের যুদ্ধ করার মতো সেনার অভাব।

ইউক্রেনীয় বাহিনীতে এখন তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে এবং কিয়েভ প্রশাসন সাধারণ মানুষকে জোর করে ধরে যুদ্ধে পাঠাচ্ছে। ইউক্রেনের এই জোরপূর্বক সামরিক নিয়োগ বা কমপলসরি কনস্ক্রিপশন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার সামরিক বয়সী পুরুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। বুলগেরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ প্রথম থেকেই ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়ার এবং রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।

নিজেদের পরাজয় ঠেকাতে মরিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২১তম দফার এক হাস্যকর ও ব্যর্থ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ঘোষণা করেছেন যে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করা সমস্ত সেনার ইউরোপে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। পশ্চিমাদের এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতি বা সামরিক বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে বিন্দুমাত্র থামাতে পারবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার তেলের ওপর ৪৪ ডলারের প্রাইস ক্যাপ বা মূল্যসীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর এবং রুশ শ্যাডো ফ্লিটের ৩০টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং তৃতীয় দেশের ২০টি ব্যাংকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাশিয়া ইতিমধ্যেই বিকল্প বৈশ্বিক বাজার নিশ্চিত করে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে।

পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ভন্ডামি আরও স্পষ্ট হয়েছে ওসিসিআরপি এবং দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে, যেখানে দেখা গেছে আয়ারল্যান্ডের তৈরি কাঁচামাল সরাসরি রাশিয়ার অস্ত্র কারখানায় যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের আউগিনিশ প্ল্যান্ট থেকে অ্যালুমিনা সাইবেরিয়াতে পাঠানো হচ্ছে, যা দিয়ে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে রাশিয়ার মারাত্মক সব যুদ্ধাস্ত্র তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে ইউরোপের নিজেদের নিষেধাজ্ঞা কত বড় একটি তামাশা।

যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ সেনারা ইউক্রেনের ১,৩৩০ জনেরও বেশি সেনা খতম করেছে। রুশ বিমান বাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলন্দাজ ইউনিট ইউক্রেনের গোলাবারুদ ও জ্বালানি ডিপো, পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। কিয়েভের সামরিক ও বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের ১৪২টি অস্থায়ী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইনগুলোতে ইউক্রেনীয় বাহিনী খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে এবং রাশিয়ার প্রতিটি ব্যাটেলগ্রুপ তাদের পজিশন আরও মজবুত করেছে। রাশিয়ার ব্যাটেলগ্রুপ নর্থ খারকভ ও সুমি অঞ্চলে ২৪০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে খতম করেছে এবং ১৭টি সামরিক যান ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ব্যাটেলগ্রুপ ওয়েস্ট ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিকে ২৩০ জনের বেশি সেনা এবং ৫টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে।

ডোনেটস্ক ও দিনিপ্রো অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাটেলগ্রুপ সাউথ, সেন্টার এবং ইস্টের সাঁড়াশি আক্রমণে ইউক্রেনীয় বাহিনী পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার অভেদ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৫৫১টি ড্রোন এবং আমেরিকার দেওয়া ২টি দূরপাল্লার হাইমার্স (HIMARS) রকেট মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। পশ্চিমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও রাশিয়ার আকাশসীমা ভেদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

যুদ্ধের এই ভয়াবহ বাস্তবতায় ইউক্রেনের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তথা তাদের বিশাল ইস্পাত বা স্টিল শিল্প এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন প্রোটেকশনিস্ট বা সংরক্ষণবাদী কোটা সিস্টেমের কারণে ইউক্রেনের সর্ববৃহৎ ইস্পাত উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মেটইনভেস্টের প্রধান নির্বাহী ইউরি রাইঝেনকভ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপের এই নতুন নীতি ইউক্রেনের ইস্পাত শিল্পকে চিরতরে মেরে ফেলবে।

মেটইনভেস্ট ইতিমধ্যেই মারিউপোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টিল প্ল্যান্ট এবং পোকরোভস্কের কোকিং কোল মাইন হারিয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং রেল যোগাযোগ ধ্বংস হওয়ার কারণে ইউক্রেনের অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণ লাইফ সাপোর্টে চলছে। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট যে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য সামরিক বিজয় এবং পশ্চিমাদের ভেতরের চরম ফাটল ইউক্রেনকে এক সুনিশ্চিত ও লজ্জাজনক পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

Walton Ads