আপনি কি জানেন, মুসলিম বিশ্বের বুকে ছুরি চালিয়ে আজ আমেরিকা ও ইসরাইলের তল্পিবাহক হয়ে উঠেছে আরব আমিরাত? বন্ধুত্বের আড়ালে ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে গোপন বিমান হামলা। এই বিশ্বাসঘাতকতার পর্দাফাঁস করতে আজকের ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আজ এক চরম সন্ধিক্ষণে। আর এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাক্কারজনক ইউটার্ন। দীর্ঘদিনের কৌশলগত নিরপেক্ষতা ঝেড়ে ফেলে তারা এখন আমেরিকা ও ইসরাইলের অন্ধ অনুসারী। ইরানকে কোণঠাসা করতে তারা তাদের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে। আজ আমরা তুলে ধরব কীভাবে আবু ধাবি মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে গিয়ে জায়নবাদী শক্তির হাতে হাত মিলিয়ে ইরানের ওপর চড়াও হয়েছে।
মে ২০২৬। তারিখটি ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতার দিন হিসেবে লেখা থাকবে। আরব আমিরাত ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করে প্রমাণ করল, তারা তেলের বাজারের চেয়েও আমেরিকার আজ্ঞাবহ থাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এটা কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইরান ও প্রতিরোধের অক্ষকে দুর্বল করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। এই সিদ্ধান্ত তেল বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার নীল নকশারই একটি অংশ মাত্র।
ইরান দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলে প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর। অথচ আরব আমিরাত সেই ইরানেরই পিঠে ছুরি মারছে। ফুজাইরাহ ও দুবাইয়ের শিল্পাঞ্চলে আক্রমণের অজুহাত দেখিয়ে তারা আমেরিকার দালালি শুরু করেছে। ইরান যখন অবৈধ দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন আরব আমিরাত গোপনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। এটি কেবল বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং মুসলিম রক্ত নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক জুয়া খেলা।
যুদ্ধের শুরু থেকেই আমরা দেখেছি ইরান কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। বিপরীতে, আরব আমিরাত আমেরিকার প্যাট্রিয়ট ও থাড সিস্টেমের ওপর ভরসা করে নিজেদের রক্ষা করতে ব্যস্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা এখন ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার হাতের পুতুল। ইরানের কোনো বিমান বা ড্রোন আক্রমণ নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তারা ইহুদি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করেছে, যা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক।
কেন আরব আমিরাত হঠাৎ ইরানকে শত্রু জ্ঞান করছে? এর পেছনে রয়েছে ওয়াশিংটনের চাপ। আমেরিকা চায় না এই অঞ্চলে ইরান শক্তিশালী হোক। তাই তারা আরব আমিরাতকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা ইরানকে ভয় দেখাচ্ছে, কিন্তু ইরান ভীত নয়। ইরানের সামরিক সক্ষমতা আজ বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের সমান। আরব আমিরাতের এই তল্পিবাহক নীতি আসলে তাদের নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনছে।
সৌদি আরবের মতো বড় দেশগুলোর নীরবতাকেও আরব আমিরাত তাদের সুযোগ হিসেবে দেখছে। তারা মনে করছে, আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে সখ্যতা গড়লে তাদের সিংহাসন সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু ইতিহাসে দেখা গেছে, যারা পশ্চিমা শক্তির ওপর ভরসা করেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়েছে। আরব আমিরাতের বর্তমান শাসকরা সেই ঐতিহাসিক সত্য ভুলে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দাবার ঘুঁটি হয়ে নিজেদের জাতীয় সম্মান বিসর্জন দিয়েছে।
আরব আমিরাতের অর্থায়ন ব্যবস্থা এখন সরাসরি মার্কিন গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রণে। তারা ইরানের সমস্ত ব্যাংকিং রেকর্ড ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিচ্ছে। এটি একটি দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন। এমন কোনো স্বাধীন দেশ তার মিত্র বা প্রতিবেশী দেশের গোপন তথ্য অন্য শত্রুর হাতে তুলে দেয় না। আরব আমিরাত আজ প্রমাণ করল, তাদের কাছে টাকার চেয়ে বাণিজ্যের স্বার্থ এবং ইসরাইলের তুষ্টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
লাভান দ্বীপ ও আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে আরব আমিরাত আসলে নিজেদের কবর নিজেই খুঁড়ছে। ইরান কখনোই এই আগ্রাসন বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না। ইসরাইলের সাথে মিলে পরিকল্পিত এই হামলা প্রমান করে যে, আমিরাত এখন জায়নবাদী মতাদর্শের ধারক। তারা মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের বদলে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তাদের প্রধান লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য একটি কাজ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ আরব আমিরাতের এই নগ্ন সত্য দেখছে। চীন ও রাশিয়া যখন পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তখন আরব আমিরাত অন্ধের মতো আমেরিকার প্ররোচনায় পা দিয়েছে। তারা মনে করছে, এতে তাদের তেল রপ্তানি বাড়বে। কিন্তু মনে রাখবেন, অন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে গড়া কোনো সাম্রাজ্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ইরান তার নিজস্ব শক্তিতে আজ অজেয়, আর আমিরাত হলো একটি ভঙ্গুর কাঁচের ঘর।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকিতে। আরব আমিরাত যে পথ বেছে নিয়েছে, তা এই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আগুন জ্বালাবে। তারা যদি আমেরিকা ও ইসরাইলের দাসে পরিণত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র জারি রাখে, তবে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। ইরান কেবল তার দেশের সীমানা রক্ষা করছে না, তারা পুরো অঞ্চলের মর্যাদা রক্ষা করছে। আমিরাতের বিশ্বাসঘাতক নেতৃত্ব আজ কেবল নিজেদের পতনকেই ত্বরান্বিত করছে।
আমেরিকার জন্য আরব আমিরাত একটি মোক্ষম দাবার ঘুঁটি। তারা আমিরাতের সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করছে ইরানকে হেনস্তা করার জন্য। কিন্তু আমিরাতের জনগণ কি চায় না তাদের দেশটি স্বাধীন থাকুক? জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে শাসকরা যে তল্পিবাহক রাজনীতি করছে, তা একদিন তাদেরই বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে। ইতিহাসের বিচার বড় কঠিন, আর এই বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে আমিরাতের শাসকদের একদিন জবাবদিহি করতে হবে।
ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়া আরব আমিরাতের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তারা ভেবেছে, তেলের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করবে। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেদের একটি খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। ইরান যখন তার নীতিতে অটল, তখন আমিরাত আজ আমেরিকার দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তারা তেলের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে নিজেদের নীতি, নৈতিকতা এবং প্রতিবেশী মুসলিম দেশের প্রতি তাদের মৌলিক দায়িত্ববোধ।
আজ প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে ক্ষোভ। যে আরব আমিরাত একসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের কথা বলত, আজ তারাই দখলদার ইসরাইলের সাথে গভীর সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ। এই দ্বিমুখী আচরণ কি আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব? না, আজ আরব আমিরাতের প্রতিটি পদক্ষেপই প্রমান করছে তারা আমেরিকার হাতের পুতুল। ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্রের দলিল আজ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত। তাদের এই মুখোশ চিরতরে খুলে ফেলেছে বর্তমান সংকট।
ইসরাইল ও আমেরিকা মনে করছে তারা ইরানকে দুর্বল করতে পারবে। কিন্তু তারা জানে না, প্রতিরোধের এই আগুন কখনোই নেভে না। আরব আমিরাত যদি মনে করে তারা ইসরাইলি শক্তির ছত্রছায়ায় সুরক্ষিত, তবে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। ইরান তার প্রতিশোধ নেওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমিরাত আজ যা করছে, তা তাদের জন্য এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের পূর্বাভাস। সময় এখনো আছে, সঠিক পথ বেছে নিন।
শেষে বলতে চাই, আরব আমিরাতের এই নতুন পররাষ্ট্রনীতি কেবল তাদেরই নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আমেরিকার আজ্ঞাবহ হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা আসলে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে হাঁটছে। ইরান বিজয়ী হবে, কারণ তাদের লড়াই সত্য ও ন্যায়ের জন্য। বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি সবসময়ই করুণ হয়, আর আরব আমিরাত এখন সেই করুণ পরিণতির দিকেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
ফাঁদে শেখ হাসিনা! বন্ধ সব পালানোর পথ?
