দলের শৃঙ্খলা রক্ষা আর জোটের বিজয় নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ না পেয়ে যেসব দলীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সরাতে এখন শেষ চেষ্টা করছে বিএনপি। আর এই মিশনে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছেন নিজে তারেক রহমান।
বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো, জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোয় শুধুমাত্র তাদের প্রার্থীই জিতুক। কিন্তু সেই আসনগুলোতেই বিএনপির নিজেদের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই 'বিদ্রোহী' প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে এখন তীব্র তৎপরতা চলছে।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান নিজে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে এবং দলীয় প্রার্থী বা জোট শরিকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। পাশাপাশি, সরকার গঠন হলে তাদের 'উচিত মূল্যায়ন' এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের বহিষ্কৃত সাবেক এমপি আব্দুল খালেক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের সাথে কথা বলে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে রাজি করানো হয়েছে। একরামুজ্জামান সরাসরি ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, "মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। এরপরও যারা মাঠে থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দলটি মনে করছে, এই 'বিদ্রোহী' প্রার্থীদের যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তারা জোটের ১৭টি আসনে শরিকদের সাথে সমঝোতা করেছে, যেখানে বেশ কয়েকজন জোটনেতা ইতিমধ্যেই বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষেই লড়ছেন।
তবে ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩-এর মতো শতাধিক আসনে এখনও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়ে গেছেন। জোট নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বিজয় নিশ্চিত করতে হলে এসব আসনে 'কোনো ব্যানারেই' বিএনপির প্রার্থী থাকা চলবে না।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেই তারেক রহমানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপকে 'আলটিমেট কৌশল' হিসেবে দেখছে দল। এখন দেখা যাচ্ছে, ২০ জানুয়ারির আগে কতজন 'বিদ্রোহী' তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দেন এবং দলীয় শৃঙ্খলায় ফিরে আসেন।
