গুম ও খুনের ভয়াবহ সময় শেষ হয়েছে—এমন আশার কথা বললেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনো গোপন বা লুকিয়ে থাকার কৌশল নেননি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে সবসময় দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই লড়াইয়ে তারা সবসময় স্বজনহারাদের সঙ্গে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত মামলা দেওয়া হয়েছে, সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রতিটি মামলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল। যারা নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু এত নির্যাতনের পরও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়েননি।
তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত ভূমিকা দেখা গেছে, কিন্তু একটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্য ধরবে। জনগণের ম্যান্ডেটে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে গুম-খুনের শিকার শহীদদের নামে সড়ক, স্থাপনা নামকরণ করা হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ কেউ নানা অজুহাতে গণতন্ত্রের পথে বাধা দিতে চায়। যারা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা থামাতে চায়, তাদের সফল হতে দেওয়া যাবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পথ বন্ধ হলে তা শহীদদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
এই মতবিনিময় সভায় সারা দেশ থেকে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন। তারা তাদের স্বজনদের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। সভার আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ নামের দুটি সংগঠন।
অনুষ্ঠানে অনেক স্বজন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, চোখের জল ফেলেন—এই মুহূর্তগুলো সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
