২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি–মার্চে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতীয় দল থেকে শুভমান গিলকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার যোগরাজ সিং। গৌতম গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকারকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, কয়েক ম্যাচ খারাপ খেললেই একজন ক্রিকেটারের গুরুত্ব, নেতৃত্বগুণ বা দীর্ঘমেয়াদি অবদান উপেক্ষা করা ঠিক নয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে শুভমান গিলের নাম না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এশিয়া কাপে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার পর তাকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ভারতের টপ অর্ডারেও বড় পরিবর্তন আনা হয়। ওপেনিং জুটি ভেঙে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকে আলাদা করা হয়। তবে এই পরিবর্তন ভারতের জন্য কার্যকর হয়নি।
শুভমান গিলের বাদ পড়া নিয়ে মুখ খুললেন যোগরাজ সিং
যোগরাজ সিং বলেন, সহ-অধিনায়ক হয়েও গিলকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা একেবারেই যুক্তিহীন। অতীতে অনেক ক্রিকেটার বারবার ব্যর্থ হলেও দীর্ঘ সময় সুযোগ পেয়েছেন—সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে অভিষেক শর্মার নাম টেনে প্রশ্ন তোলেন, কয়েক ম্যাচ খারাপ খেললে তাকেও কি বাদ দেওয়া হবে?
রবি বিষ্টের ইউটিউব শোতে যোগরাজ বলেন,
“শুভমান গিল দলের সহ-অধিনায়ক। তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার কারণ কী? চার-পাঁচটি ইনিংসে ব্যর্থ হলেই? ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন, যারা ১০০ ম্যাচে ১০টাও ভালো খেলেননি, তবু সুযোগ পেয়ে গেছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“অভিষেক শর্মা কয়েক বছর আগে দলে এসেছে। যদি সে চার ইনিংসে ব্যর্থ হয়, তাকেও কি বাদ দেওয়া হবে?”
‘মহান’ কপিল দেবের উদাহরণ টানলেন যোগরাজ
পুরনো নির্বাচনী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে যোগরাজ সিং কপিল দেবের উদাহরণ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এক বিদেশ সফরে ব্যাটে-বলে ব্যর্থ হলেও কপিল দেবকে দলে রেখেছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক বিষাণ সিং বেদি।
যোগরাজ বলেন,
“‘মহান’ কপিল দেবের একটা উদাহরণ দিই। পাকিস্তান সফরে বিষাণ সিং বেদির নেতৃত্বে কপিল বারবার ব্যর্থ হলেও খেলতে থাকেন। এরপরও বেদি তাকে ইংল্যান্ড সফরে দলে রাখেন।”
টি-টোয়েন্টিতে গিলের ব্যর্থতাই কাল হলো?
জাতীয় দলে ফেরার পর টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা ধারাবাহিক ছিলেন না শুভমান গিল। ১৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি করেছেন ২৯১ রান। গড় ২৪.২৫, স্ট্রাইক রেট ১৩৭.২৬। একটিও অর্ধশতক না থাকায় তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
গিলের ফর্ম ভালো না হওয়ায় ভারতের টি-টোয়েন্টি কম্বিনেশন বারবার বদলানো হয়। প্রথমে সঞ্জু স্যামসনকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নামানো হয়, পরে তাকে দল থেকেই বাদ দেওয়া হয়।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকার জানান, গিলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার দক্ষতা নিয়ে নয়, বরং দলের কম্বিনেশনের প্রয়োজনে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে সাইয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ইশান কিষানকে দলে ফেরানো হয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে গিলের জায়গায় সুযোগ পান কিষান।
টি-টোয়েন্টিতে ধাক্কা খেলেও ভারতের ভরসা গিলই
টি-টোয়েন্টিতে বাদ পড়লেও শুভমান গিল এখনও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ওয়ানডে ও টেস্ট দলে তিনি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সামনে জয়পুরে পাঞ্জাবের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফির দুটি ম্যাচ খেলবেন গিল। পাশাপাশি ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন এই তরুণ তারকা।
