জাতীয় শুটার কামরুন নাহার কলির বহিষ্কারাদেশ অবশেষে উঠে গেল। কিন্তু পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছেন না তিনি। শুটিং ফেডারেশন রাশি রাশি শর্ত জুড়ে দিয়েছে বহিষ্কার প্রত্যাহারের চিঠিতে। কলিকে ফিরতে হবে সাজানো ক্যাম্পে, তাও আবার লিখিত অঙ্গীকার করে।
ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো নিয়ম ভাঙলেই আবার বহিষ্কার—সেখানেও কোনো নোটিশ নয়, সরাসরি পদক্ষেপ। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বড় চমক হলো মিডিয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা। অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে কোনো কথা বলতে পারবেন না কলি। এমনকি ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে ফেডারেশন, সহ খেলোয়াড় বা কোচ নিয়ে কিছু লিখলেই সমস্যা!
তিন মাস কলি থাকবেন ফেডারেশনের নজরদারিতে। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো ‘ছোটখাটো’ শৃঙ্খলাভঙ্গও হয়, তাহলে স্থায়ী বহিষ্কার অনিবার্য। পর্যবেক্ষণ শেষেও যদি আবার নিয়ম ভাঙেন, তাহলে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বহিষ্কার কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, কলি আগে অভিযোগ করেছিলেন, শিবিরে তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে মিডিয়া ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) চিঠি দেন কলি। এনএসসির তদন্তে সাজ্জাদ দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে শুটিং থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তখনই ফেডারেশন কলিকে বহিষ্কার করে বসে, যা অনেকের কাছে প্রতিহিংসামূলক আচরণ বলেই মনে হয়েছে।
সারা ক্রীড়াঙ্গন জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজেও ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন। ফেডারেশনের চিঠিতেই উল্লেখ আছে, প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশেই এই বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবককে ফেডারেশনের চিঠিতে এভাবে উপস্থাপন বেশ নজিরবিহীন বলেই মন্তব্য করছেন অনেকে।
