বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে আগুন! পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১২৯ বলে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি, দেখুন ভিডিও
মুহাম্মদ আব্বাসের বলটা কাভার ড্রাইভ দিয়ে বাউন্ডারি পার করতেই বাতাসে লাফিয়ে চিৎকার করে উঠলেন শান্ত। হাতে ব্যাট আর মাথায় হেলমেট—এই তো তার ট্রেডমার্ক উদযাপন। যেন আকাশ ছোঁয়ার আনন্দ! শুক্রবার সেই দৃশ্য দেখে গ্যালারিও মেতে উঠল।
আপনারা জানেন কী? পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে টেস্টে শান্তর একটি ফিফটিও ছিল না। আজ সেই শূন্যতা কাটানোর পর মেরে দিলেন সেঞ্চুরি। আর তাতেই যেন বদলে গেল পুরো ম্যাচের চেহারা।
দ্রুতই ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এই তারকা ব্যাটার। উল্লেখ করার মতো ব্যাপার হচ্ছে—শেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। মানে দাঁড়ালো, সর্বশেষ ৮ ইনিংসে ৪ বার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন শান্ত!
পেস হোক বা স্পিন, শান্তর শট বাছাই থেকে শুরু করে প্রতিটি কদম ছিল অসাধারণ। কিন্তু সেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ টিকলেন না তিনি। পরের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ক্রিজ ছাড়তে হয় তাকে। ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
গত কয়েক বছর ধরে সাদা পোশাকে উড়ন্ত ফর্মে আছেন শান্ত। হাফসেঞ্চুরিকে তিন অঙ্কে রূপ দিতে বাংলাদেশে তাঁকে টেক্কা দিতে পারবেন এমন ব্যাটার কমই আছেন! তার পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে—টেস্টে মাত্র ৫টি ফিফটির বিপরীতে ৯টি সেঞ্চুরি!
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ৩১ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় দল। কিন্তু এরপর শান্ত আর মুমিনুল মিলে গড়লেন ১৭০ রানের দারুণ জুটি! যা পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
আগে এই রেকর্ডটা ছিল ১৩০ রানের। পেশোয়ারে ২০০৩ সালে মুহাম্মদ আশরাফুল ও জাভেদ ওমর গড়েছিলেন ওই জুটি। তবে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি ২৪২ রানের। ৫ বছর আগে পাল্লেকেলেতে শান্ত ও মুমিনুলই গড়েছিলেন সেটি। এবার আবারও দুজনে মিলে ২৫৩ বলে তুললেন ১৭০ রান।
শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংস সাজিয়েছেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কায়। আর অপরাজিত রয়েছেন মুমিনুল, তিনিও তুলে নিয়েছেন হাফসেঞ্চুরি। টানা চার ইনিংসে তিনি ৫০ ছুঁয়েছেন—৮২, ৬৩, ৮৭ এবার আরও একটি ফিফটি। এবার বাংলাদেশ চাইছে মুমিনুলের ব্যাট থেকেও আসুক ম্যাজিক সেঞ্চুরি!
