ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রে ভাষাগত পরিচয় ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্য সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি ও মারাঠির পাশাপাশি হিন্দিকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করায় শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। সমালোচকরা এটিকে হিন্দি ভাষা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
মহারাষ্ট্রে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি আঞ্চলিক গর্ব ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। বিরোধীরা বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভাষানীতি রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।
মুম্বাইসহ রাজ্যজুড়ে হিন্দিভাষীদের বিরুদ্ধে কিছু সহিংস ঘটনার খবর উঠে এসেছে। কোথাও মারাঠি না জানার কারণে দোকানদারকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, আবার কোথাও নিরাপত্তারক্ষী বা আবাসিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি একদিকে সামাজিক বিভাজন বাড়ালেও অন্যদিকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতা—উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরেকে একমঞ্চে এনেছে। তাঁরা একযোগে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন পৌর নির্বাচন সামনে রেখে ভাষার আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চলছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, ভাষার নামে ঘৃণা ও সহিংসতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক লাভ করা অনৈতিক।
‘মারাঠি গর্ব’ রাজনীতির পুরনো অস্ত্র হলেও, আধুনিক মহারাষ্ট্রবাসী উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে—ভাষাগত রাজনীতি রাষ্ট্রের জন্য এক ‘থাপ্পড়’, যা উন্নত রাজ্যে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ভাষা ও পরিচয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলাটাই এখন মহারাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
