ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। নিজের স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধনখড়। চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পদত্যাগপত্রে ধনখড় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি মুর্মু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করার সময় প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন এবং অনেক কিছু শিখেছেন।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আন্তরিকতা, আস্থা ও ভালোবাসা তার মনে চিরকাল অমলিন থাকবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে গর্বিত ও কৃতজ্ঞ মনে করছেন তিনি।
৭৪ বছর বয়সী জগদীপ ধনখড় বলেন, দেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই অগ্রযাত্রায় নিজেও অংশ নিতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন বলে জানান তিনি।
২০২২ সালের আগস্টে বিরোধী প্রার্থী মার্গারেট আলভাকে পরাজিত করে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ধনখড়। তার মেয়াদ ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত। মাত্র দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়লেন।
উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন। তার প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সমৃদ্ধ বলে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
ধনখড়ের পদত্যাগের পর ভারতের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
