ঈদুল আজহা মানেই কুরবানির পশু বেচাকেনার ব্যস্ততা। কিন্তু এবার সেই ব্যস্ততার জায়গায় যেন নেমে এসেছে অন্ধকার। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের ঘোষপাড়ার গরু খামারিরা এখন চরম দুশ্চিন্তায়। কারণ সরকারের নতুন নিয়মে তাঁদের ব্যবসা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
কী সেই নতুন নিয়ম? ১৪ বছর বয়স না হলে কোনো গরু বিক্রি বা কাটা যাবে না। আর তার জন্য দরকার গরুর জন্ম সার্টিফিকেট! খামারিদের একটাই প্রশ্ন— মানুষের জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায়, কিন্তু গরুর জন্ম সার্টিফিকেট কোথা থেকে আনবেন তাঁরা?
এই নিয়ম আসতেই বাজে অবস্থা। স্থানীয় পাইকারি বাজার প্রায় বন্ধ। ক্রেতা-পাইকার কেউ আসছেন না খামারে। আগে যারা অগ্রিম টাকা দিয়ে গরু বায়না করেছিলেন, তাঁরাও এখন পুলিশি হয়রানির ভয়ে টাকা ফিরিয়ে নিচ্ছেন। খামারিরা বলছেন, ‘মুসলমানরা নয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা হিন্দু খামারিরাই।’
ঘোষপাড়ার প্রায় প্রতিটি পরিবার ২০-৩০ বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে কুরবানির সময় বিক্রি করেন। এবার একেক ব্যবসায়ী ১৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক, স্বর্ণ বা ভুষির দোকান থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছেন। এখন বেচাকেনা বন্ধ হওয়ায় মূলধন হারিয়ে দিশেহারা তাঁরা।
আর্থিক সংকট চরম আকার নিয়েছে। খামারের পশুদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। ভুষি ও খড়ের দোকানে লাখ লাখ টাকা বাকি থাকায় বিক্রেতারা আর বাকিতে দিচ্ছেন না। খামারিরা বলছেন, নিজেদের সংসার চালানোই কঠিন, উপরে পশুদের খাবার জোগান দেওয়া তো দূরের কথা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পশুরা অনাহারে মারা যেতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, ঘোষপাড়ার খামারিরা এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে বছর ধরে কাজ করছেন। তাঁদের কোনো সাম্প্রদায়িক বিরোধ নেই। এবার শুধু সরকারি নিয়মে তাঁদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
খামারিদের দাবি, অন্তত ছয় মাস আগে নিয়ম জানালে প্রস্তুতি নিতে পারতেন। কিন্তু কুরবানির ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্তে তাঁরা পথে বসার পথে। সরকার যদি গরু কিনে নেয় অথবা এ বছরের জন্য নিয়ম শিথিল করে, তাহলেই বাঁচেন তাঁরা। অন্যথায় নবান্ন অভিমুখে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামারিরা।
