বরফ গলছে? মমতার ‘জল স্বপ্ন’ নয়, ‘জল-জীবনে’ ১ হাজার কোটি টাকা পাঠাল নয়াদিল্লি!

তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব অনেক দিন ধরেই বলছিলেন, বাংলায় জমি পেতে তিন অস্ত্র ব্যবহার করছে বিজেপি। ধর্মীয় মেরুকরণ, সিবিআই ও ইডি এবং আর্থিক অবরোধ। বস্তুত কেন্দ্র-রাজ্য (Central-State) মতান্তরে দীর্ঘ দিন ধরে নানা সরকারি প্রকল্প খাতে বরাদ্দ (Central Fund) প্রায় বন্ধই করে রেখেছে মোদী সরকার। অবশেষে বুধবার ১০৩৬ কোটি (1036 Crore) টাকা বরাদ্দ করেছে নয়াদিল্লি।

অতীতে মনমোহন সিং জমানায় গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প ছিল। তার নাম ছিল ‘জাতীয় গ্রামীণ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প।’ কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক তা বাস্তবায়িত করত। নরেন্দ্র মোদী জমানায় সেই প্রকল্পকে নতুন জামা পরানো হয় (পড়ুন নতুন প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং), নাম রাখা হয় ‘জল জীবন মিশন’ (Jal Jiban Mission)। অনেকের মতে, একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হয়, মোদী জমানাতেই বুঝি এই প্রথম গ্রামে শুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের কথা ভাবা হল। ঘটনা হল, জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নামও বদল করে রাখা হয় জলশক্তি মন্ত্রক। ওই জলজীবন মিশন খাতেই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার জন্য বরাদ্দ পাওয়ার কথা। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম কিস্তি হিসাবে মঙ্গলবার সেই টাকায় কলকাতায় পৌঁছেছে।

ঘটনা হল, মোদী সরকার যেমন নতুন পোশাক পরিয়ে জলজীবন মিশন নাম দিয়ে নয়া ব্র্যান্ডিং করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছে, তেমনই বাংলায় ওই প্রকল্পের নাম বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জল স্বপ্ন’ বলে নাম দেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সহ বাংলার বিজেপি নেতাদের দৌত্যের পর কেন্দ্র এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে যে রাজ্য দিল্লির অনুদানে চলা প্রকল্পের নাম বদল করতে পারবে না। ফলে এখন ওই প্রকল্প জল স্বপ্নের পরিবর্তনে জল জীবন নামে বাস্তবায়িত হবে বলেই খবর।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বাংলার গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য নবান্নর উদ্যোগেও খামতি ছিল না। জনস্বাস্থ্য কারিগরী ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী থাকাকালীন সুব্রত মুখোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের ঋণের টাকায় বাংলায় পানীয় জল সরবরাহের একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। কারণ, মালদহ, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় যেমন মাটির নিচের জলে আর্সেনিক রয়েছে, তেমনই মেদিনীপুরে উপকূল সংলগ্ন এলাকায় জল নোনা আর বাঁকুড়া-পুরুলিয়াতে জলস্তর নীচে। তাই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করে বাড়ি বাড়ি ট্যাপ কলের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েছে নবান্ন। শুধু তা নয়, বাংলার এই কাজে এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এতটাই উৎসাহী ছিলেন যে তাঁরা সুব্রতবাবুকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে ‘সোল ওয়াটারের’ প্রোজেক্ট দেখাতে চেয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে সে প্রসঙ্গ ভিন্ন।

আপাতত বিষয় হল, কেন্দ্রের থেকে অনেক দিন পর প্রকল্প খাতে বরাদ্দ পৌঁছেছে কলকাতায়। এবং সেই টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের এখন আন্তরিক নবান্নও। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই বরাদ্দ থেকে যেন কোনও লিকেজ না হয়।খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে

news