রাশিয়ার সস্তায় খাদ্যশস্যের প্রস্তাবের ব্যাপারে সতর্ক করল ইইউ
সস্তায় খাদ্যশস্য প্রদানের রাশিয়া প্রস্তাবের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। ইইউ বলেছে, রাশিয়ার এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার অবনতি ঘটিয়ে ‘নতুন নির্ভরশীলতার সৃষ্টি করা’। ইই্উ’র চিঠির বরাত দিয়ে রয়টার্স বুধবার এ খবর জানায়।
ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল উন্নয়নশীল ও গ্রুপ -২০ দেশগুলোকে গত সোমবার এ চিঠি লিখেছেন। এতে তিনি মস্কোকে শস্য চুক্তিতে ফিরে আসতে স্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে ইউক্রেন নিরাপদে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে তার খাদ্যশস্য রপ্তাানি করতে পারে। এ ছাড়া ইউক্রেনের কৃষির ওপর রাশিয়ার হামলা বন্ধ করার জন্য সোচ্চার হতে ইইউ আহ্বান জানিয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর বিশ্বে খাদ্য সংকট কমাতে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত মাসে রাশিয়া চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কৃষ্ণ সাগর ও দানুব নদীর তীরবর্তী ইউক্রেনের খাদ্যশস্য অবকাঠামোর ওপর হামরা শুরু করেছে। এতে বিশ্বে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে।
বোরেল বলেন, চুক্তিটি ভেঙ্গে পড়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে ও দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া গরীব দেশগুলোকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সস্তায় খাদ্যশস্য দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এ মাধ্যমে মস্কো তার নিজের সৃষ্ট সমস্যা নিরসন করার ভান করছে।
তিনি বলেন, একটি খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার এক নিষ্ঠুর নীতি। এর মাধ্যমে মস্কো নতুন নির্ভরশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফ্রিকার নেতাদেরকে বলেন যে, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তায় মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে তারা আফ্রিকায় ইউক্রেনের রপ্তানির বিষয় পূরণ করতে প্রস্তত রয়েছে। মস্কো বাণিজ্যিক ও ত্রাণ উভয় ভিত্তিতে এ শস্য প্রদান করবে।
রাশিয়া বলেছে, তার নিজস্ব খাদ্যশস্য ও সার রপ্তানির চাহিদার উন্নতি হলে মস্কো কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তিতে ফেরার বিষয় বিবেচনা করতে পারে। মস্কোর অন্যতম দাবি হচ্ছে রাশিয়ার কৃষি ব্যাংককে সুইফট ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করতে হবে। ২০২২ সালের জুন মাসে ইইউ এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি