শুরু হচ্ছে নতুন ক্লাস, বই ছাপা হয়নি একটিও! কাগজের এমন ভয়াবহ সংকট কেন পাকিস্তানে

 আর কিছুদিন পরেই শুরু নতুন শিক্ষাবর্ষ (New Academic Year)। কিন্তু এখনও কোনও নতুন বই (Book) ছেপেই উঠতে পারেনি সরকার। নেই কোনও খাতাও। ফলে রীতিমতো আঁধারে পড়ুয়াদের আগামী। কাগজের তুমুল সংকটের (Paper Crisis) কারণেই এই অবস্থা হয়েছে পড়শি দেশ পাকিস্তানে (Pakistan)।

মনে করা হচ্ছে, এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে চলেছে কয়েক মাসের মধ্যে। নতুন বই না পেলে নতুন ক্লাসের পড়াশোনা শুরুই করতে পারবে না বহু ছাত্রছাত্রী। পাকিস্তানের প্রকাশক ও বইবিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, সিন্ধ, পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুংখোয়া– এইসব প্রদেশের কয়েক লক্ষ ছেলেমেয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নতুন বই তারা না ছাপালে, পড়াশোনা হবে না।

পাকিস্তানের কাগজ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে, কাগজের সংকট হু হু করে বাড়ছে। এর মূল কারণ চড়া ট্যাক্স। ট্যাক্স যোগ হওয়ার পরে কাগজের দাম এত বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যে তা কিনতেই পারছেন না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া কাগজের দামও ২০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। গত ছ’মাসে প্রতি কেজিতে মোট ১০০ টাকা মতো দাম বেড়েছে কাগজের। রোজই ৫-১০ টাকা করে বেড়েই চলেছে। তার ওপরে তার কোয়ালিটিও তেমন ভাল নয়। ফলে সব মিলিয়ে, বইখাতাও তৈরি হচ্ছে না।

সে দেশের বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিকরা জানিয়েছেন, এ জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সরকার। আয়াজ আমির নামের এক কলামনিস্ট পাক সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আয়ুব খান, ইয়াইয়া খান, জুলফিকার আলি ভুট্টো, মহম্মদ জিয়া উল হক– সকলের শাসনকালই আমরা দেখেছি। সমস্যা বরাবরই একটাই থেকে গেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা ঋণ নেন। তার পরে সেই ঋণ চোকানোর জন্য আরও বেশি ঋণ নিয়ে ফের আরও বড় সমস্যা তৈরি করেন। এটা একটা চক্রের মতো ঘুরতেই থাকে। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে, আর কোথাও ঋণ নেওয়ার জায়গা নেই। সেই জিয়া উল হকের আমলে নেওয়া ১১ কোটি লোন এখনও বাকি। এদিকে দেশের জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে, খরচ বেড়েছে। ফলে পুরোনো ঋণ শোধ হবে কী করে!’

এসবের মধ্যে চিনের তরফে চাপ আসছে, পুরোনো ঋণ চোকানোর। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে পাকিস্তান ১৫ কোটি মার্কিন ডলার কেবল সুদ হিসেবে ফেরত দিয়েছে চিনকে। আসল ঋণের অঙ্ক ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগের বছরে ৩০০ কোটি নিয়েছিল পাকিস্তান, সুদ হিসেবে দিয়েছে ১২ কোটি মার্কিন ডলার।

শুধু চিন নয়, সৌদি আরব, কাতার, ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড– সব জায়গা থেকেই ৩০ বছর ধরে ঋণ নিয়ে আসছে পাকিস্তান। বেশির ভাগ ঋণ নিয়ে শুরু হওয়া প্রকল্প মাঝপথে থেমেও গেছে। ফলে টাকা উসুল হয়নি। এই অবস্থায় আর্থিক ভাবে গোটা দেশের অবস্থা শোচনীয়।খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে news