গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় শনিবার কমপক্ষে ১১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাফায় একটি মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে (জিএইচএফ) খাদ্য বিতরণের সময় ইসরায়েলি স্নাইপার গুলিতে ৩৪ জন প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে অনেকেই শিশু ও নারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলিবর্ষণ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বারবাখ বলেন, "তারা সাহায্য নিতে আসা নিরীহ মানুষদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।" আল-আকসা হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, বেশিরভাগ নিহতের মাথা ও বুকেই গুলির আঘাত রয়েছে।

এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট চরমে পৌঁছেছে। অপুষ্টিতে এ পর্যন্ত ৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আরও ৬.৫ লাখ শিশু ঝুঁকিতে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা:
কাতারে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত রয়েছে। হামাস ইসরায়েলের প্রস্তাবিত সেনা প্রত্যাহার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি মন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট ঘোষণা দিয়েছেন, "হামাসের সামরিক কাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন চলবে।"

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ওমর রহমান আল জাজিরাকে বলেন, "ইসরায়েলের লক্ষ্য কেবল হামাস নয়, গাজার সাধারণ জনগণকে বাস্তুচ্যুত করাও।" মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব হামলাকে "যুদ্ধাপরাধ" বলে নিন্দা জানিয়েছে।

পরিস্থিতির জরুরিত্ব:
গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র হস্তক্ষেপ ছাড়া সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

news