ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি ট্যাঙ্কার জাহাজ আটক করেছে ব্রিটেনের নৌবাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে সোমবার এই চাঞ্চল্যকর খবরটি জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যের টহল জাহাজ ‘এইচএমএস সেভার্ন’ ইংলিশ চ্যানেলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় রাশিয়ার কর্ভেট ক্লাস যুদ্ধজাহাজ ‘আরএফএন স্টোইকি’ এবং ট্যাঙ্কার জাহাজ ‘ইয়েলনিয়া’কে আটক করেছে এবং গভীর নজরদারিতে রাখে। পরে এই নজরদারির দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ন্যাটোর আরেকটি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে, যেটি ব্রিটেনের উপকূলের কাছেই অবস্থান করছিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত দুই বছরে যুক্তরাজ্যের জলসীমার চারপাশে রাশিয়ার নৌ-তৎপরতা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
এমনকি, শুধু নৌজাহাজই নয়, রাশিয়ার নৌবাহিনীর গতিবিধি রিয়েল টাইমে শনাক্ত করতে ন্যাটো মিশনের অংশ হিসেবে ব্রিটেন আইসল্যান্ডে তিনটি ‘পোসাইডন’ নজরদারি বিমানও মোতায়েন করেছে। এর লক্ষ্য উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের রাশিয়ান নৌ-রুটের ওপর কড়া নজর রাখা।
এই ঘটনা ঘটেছে ঠিক তখনই, যখন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার একটি গুপ্তচর জাহাজ ‘ইয়ান্টার’ স্কটল্যান্ডের উপকূলে ব্রিটেনের পর্যবেক্ষণ বিমানের পাইলটদের দিকে লক্ষ্য করে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ করছিল!
ব্রিটেন রাশিয়ার এই কাজটিকে ‘অত্যন্ত বেপরোয়া ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, ব্রিটেন তাদের ভূখণ্ডে বা জলসীমায় কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
এর জবাবে রাশিয়ার লন্ডন দূতাবাস পাল্টা অভিযোগ এনেছে। তারা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ‘সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করার’ চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছে। রাশিয়া দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো ইচ্ছা বা আগ্রহ মস্কোর নেই।
এই পুরো ঘটনা এবং হুঁশিয়ারি এসেছে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ব্রিটিশ সরকারের নতুন বাজেট ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখাচ্ছেন প্রতিরক্ষা সচিব হিলি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাশিয়া, চীন ও ইরানের বাড়তে থাকা হুমকির কথা তুলে ধরে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কর বাড়ানো এবং অন্য খাতে ব্যয় কমানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।
মোটকথা, ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ান জাহাজ আটকের এই ঘটনা ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।