যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার গোপন শান্তি আলোচনার মধ্যেই সের্গেই ল্যাভরভ এমন চারটি শব্দ বলেছেন যা পুরো ইউরোপকে কাঁপিয়ে দিয়েছে—“তোমাদের সুযোগ ছিল।” কেন ইউরোপকে এমন কঠোর বার্তা? কী ঘটছে আলাপ-আলোচনার পেছনে?

বেলারুশে যৌথ প্রেস কনফারেন্সে ল্যাভরভ স্পষ্টভাবে জানান—ইউরোপ অতীতে যে ভুল করেছে, তার ফল আজ ভুগছে সবাই। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের মিনস্ক চুক্তি হোক কিংবা সাম্প্রতিক শান্তি প্রচেষ্টা—ইউরোপ কখনোই চুক্তি রক্ষা করেনি। সেই কারণেই এবার আলোচনায় ইউরোপকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই বার্তা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের দীর্ঘ বৈঠক শেষে তৈরি হয় নতুন ১৯-দফা শান্তি প্রস্তাব। প্রথমে ২৮ দফা থাকলেও বিতর্কিত কয়েকটি বিষয় সরিয়ে চুক্তিকে সরল করা হয়েছে। ইউক্রেন জানায় তারা প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মনে করেন—এখনও আরও আলোচনা প্রয়োজন। এই অবস্থায় রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আলোচনার আরও গভীরে গেলে দেখা যায়—যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তা ড্যান ড্রিসকোল আবুধাবিতে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে সেখানে বেশ কিছু কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার অনেকটাই প্রকাশ্যে আনা হয়নি। রাশিয়া সতর্ক করেছে, আলাস্কায় যা আলোচনা হয়েছিল তার বাইরে কিছু যোগ হলে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হবে।

ল্যাভরভের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউরোপ সবসময় শান্তি আলোচনায় অবজ্ঞা দেখিয়েছে। যখনই রাশিয়া-ইউক্রেন অগ্রগতি করেছে, তখনই ইউরোপ পিছিয়ে দিয়েছে প্রক্রিয়া। তাই এবার তারা যখন বলে—“আমাদের ছাড়া কিছু হবে না”—রাশিয়ার পাল্টা উত্তর হলো, “তোমাদের সুযোগ ছিল।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু ইউরোপ নয়, পুরো পশ্চিমা জোটের জন্য একটি কঠোর বার্তা।

এই আলোচনার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। কিয়েভে রাতভর হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি রোমানিয়ায় ন্যাটোর যুদ্ধবিমান সতর্ক অবস্থায় ওঠানো হয়, কারণ একটি রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছে বলে দাবি করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এমন উত্তেজনা শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক এখন এতটাই সূক্ষ্ম অবস্থায় যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতেও আলোচনার পুরো কাঠামো ভেঙে যেতে পারে। ডনবাস ইস্যু স্থগিত রাখা হলেও ভবিষ্যতে এটি সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে। পরিস্থিতি এখন এমন যে, যেকোনো পক্ষের সামান্য পরিবর্তন যুদ্ধের দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ল্যাভরভের চার-শব্দের সেই বক্তব্য কি নতুন শান্তি যুগের ইঙ্গিত, নাকি বড় সংঘর্ষের সূচনা?

Walton Ads