ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবিশ্বাস্য ইউ-টার্ন, মাত্র আটটি শব্দে তিনি বদলে দিলেন পুরো শান্তি প্রক্রিয়া—“ডেডলাইন আমার জন্য, যখন যুদ্ধ শেষ।” এই মন্তব্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেন তিনি সময়সীমা থেকে পিছিয়ে এলেন? কী ঘটছে পর্দার আড়ালে?

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প জানান, আর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তাঁর দাবি, শান্তি আলোচনার গতি বাড়ছে এবং রাশিয়া ইতোমধ্যে কয়েকটি ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। তবে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি। এতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন—পর্দার আড়ালে বড় ধরনের সমঝোতা তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব ইউক্রেনের ওপর পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন খসড়া শান্তি প্রস্তাব নিয়ে জোরালো উদ্বেগ উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করেন এটি রাশিয়ার পক্ষে ঝুঁকে আছে। ইউক্রেনকে চাপ দিয়ে সমঝোতায় আনার চেষ্টা হতে পারে বলেও শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প দাবি করছেন—এটি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পথ। তাঁর বক্তব্য শান্তি কিন্তু আলোচনার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ট্রাম্প জানান তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই মস্কো গিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন জ্যারেড কুশনার। গাজায় যুদ্ধবিরতি আনার অভিজ্ঞতা থাকায় এবার ইউক্রেন সংকটেও তাঁর ভূমিকা বাড়ছে। এই দুই আলোচক যুক্ত হওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এসেছে, যা রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবতা এখন রাশিয়ার অনুকূলে। কিছু অঞ্চল যেভাবেই হোক রাশিয়ার হাতে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেনের সমর্থকরা বলছেন—এটি মস্কোর প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি। তবে ট্রাম্প মনে করেন সমঝোতা দ্রুত না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে ইউক্রেন।

শুরুতে ট্রাম্প থ্যাংকসগিভিং-কে সময়সীমা বললেও এখন তিনি বলছেন—গুরুত্ব সময় নয়, সমাধান। তাঁর উপদেষ্টারাও কড়া সময়সীমা থেকে পিছিয়ে গেছেন। কারণ কূটনৈতিকভাবে চাপ বাড়ছে এবং সামরিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করতে না পারলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে ট্রাম্পের বিশ্বাস।

ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। যুদ্ধ থামলেও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ থাকবে। তাই সম্ভাব্য সমঝোতার পরেও ইউক্রেনকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে আলোচনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোও তৈরি হচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রভাব ফেলবে।

ট্রাম্পের আট শব্দের এই ইউ-টার্ন কি নতুন শান্তির ইঙ্গিত, নাকি আরেকটি রাজনৈতিক কৌশল? যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন এই আলোচনা-নির্ভর।

Walton Ads