লেবাননের সুদৃঢ় রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহ একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের রাজনৈতিক অস্থিতিশ্বের মূল দায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি দুর্বল করতে নানা রকম চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে, যাতে ইরানের সরকার ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে নড়বড়ে করা হয়।
হিজবুল্লাহর বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক চাপের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এমন সব পদক্ষেপ, যেগুলো ইরানকে বিচলিত করে তুলছে। তাদের মতে, ইরানের নিয়মিত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে “ব্যর্থ” করার জন্য এসব কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে তারা আরও দাবি করেছে যে, ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো ও অবকাঠামোর ওপর বিভিন্ন হামলা ও সহিংসতা-এর পেছনেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন কৌশল কাজ করছে, যা সাধারণ বিক্ষোভকে তীব্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে — বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে উসকানিমূলক বার্তা দিয়েছেন এবং বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দেওয়া হবে, এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক স্থগিত থাকবে যতক্ষণ সহিংসতা বন্ধ না হয়।
ইরানের অভ্যন্তরে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যখন দেশটির মুদ্রা রিয়াল ব্যাপকভাবে মূল্যহারায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪৬ মানুষ নিহত এবং ১০,০০০-এর বেশি মানুষ আটক করা হয়েছে বিক্ষোভের মধ্যে।
