জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের কাছে একটি কঠোর বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন, দেশটি যেন ফিলিস্তিন শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনআরডাব্লিউএ’-র বিরুদ্ধে নেওয়া আইন বাতিল করে এবং সংগঠনের জব্দ করা সম্পদ ও অফিস ফেরত দেয়। না হলে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICC) সামনে দাঁড়াতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন গুতেরেস।

গুতেরেসের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং এসব দ্রুত বদলানো দরকার। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ এসব নিয়ে চুপ করে থাকতে পারবেন না।

তবে ইসরায়েলের জাতিসংঘ স্থায়ী প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন মঙ্গলবার বলেছেন, মহাসচিবের হুঁশিয়ারির কোনো প্রভাব তাদের দেশে পড়বে না। তিনি দাবি করেন, ইউএনআরডাব্লিউএ কর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং গুতেরেসের অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলকে “হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” ড্যাননের দাবি, এটা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার চেয়েও অন্য কিছুতে বেশি মনোনিবেশ করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের সংসদ অক্টোবর ২০২৪-এ এক আইন পাস করে, যার মাধ্যমে দেশটিতে ইউএনআরডাব্লিউএ-র কাজকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ডিসেম্বরে ওই আইনে সংশোধনী এনে সংস্থাটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও বন্ধ করার বিধান যোগ করা হয়েছে।

এরপর ইউএনআরডাব্লিউএ-র পূর্ব জেরুজালেম অফিসও ইসরায়েল সরকারের হাতে জব্দ করা হয়। যদিও জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অংশ বলে মানে না, তবু ইসরায়েল পুরো জেরুজালেমই নিজেদের দাবি করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবাদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বির্তকের জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে যখন মানবিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

news