মিসরের অর্থনীতি বর্তমানে গভীর সংকটে আছে। দেশ সরকার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু সেনাবাহিনী তা ফিরিয়ে দিয়েছে — এমন দাবি করেছেন দেশটির ঊর্ধ্বতন ব্যাংকিং ও সরকারি কর্মকর্তারা মিডল ইস্ট আই‑কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

মিডল ইস্ট আই‑র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা ডলার রয়েছে, যা মিসরের মোট ঋণের তুলনায়ও অনেক বড় — কিন্তু সেনাবাহিনী এটিকে ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে চাইছে না।

মিসর সরকার আইএমএফ‑এর কাছ থেকে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় শেষ পর্যন্ত এটি বর্তমান ঋণ থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও শর্তাবলি এখনো স্পষ্ট নয়।

সরকারের ঋণের বোঝা এতটাই বড় যে মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি এবং এটিই উত্তর দিতে সরকার তত্পর নয় বলে জানা গেছে।

ঋণ সংকট সামাল দিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে সরকার বিরাট পরিমাণ অর্থ চাইলেও দেশীয় ব্যাংকগুলো তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সরকার সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সাহায্য চাইলে বাহিনী সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে — এই সমালোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের আর্থিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে, সেনাবাহিনীর কাছে থাকা নগদ অর্থ করোনা, আমদানি‑রপ্তানি এবং অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ হিসেবে রয়েছে, কিন্তু তা বেসামরিক সরকারের হাতে নেই এবং এই অর্থ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে মিসর সরকারের ঋণ সমস্যা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের ভেতরেই।

news