মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এতটাই বিস্তৃত যে প্রায় প্রতিটি কৌশলগত এলাকাতেই রয়েছে তাদের একাধিক ঘাঁটি। কিন্তু ইরানের কঠোর অবস্থান ও সরাসরি সতর্কবার্তায় এখন সেই সব ঘাঁটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার হুমকিও দেন। এসব ঘটনার জবাবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়—যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোই প্রথমে ইরানের হামলার লক্ষ্য হবে।

এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন দেশে বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিচে সেসব গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

বাহরাইন: এখানেই অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। এই বহর পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কাতার: দোহার কাছাকাছি আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম মার্কিন সামরিক স্থাপনা। এখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সঙ্গে আছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র।

কুয়েত: এই দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম এয়ার বেসসহ একাধিক ঘাঁটি দিয়ে মার্কিন বাহিনী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি আমেরিকার আরেকটি বড় কেন্দ্র। এখান থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ইরাক: আইন আল আসাদ ও এরবিল বিমান ঘাঁটি ইরাকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি আরব: দেশটিতেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিপুল অস্ত্র ও সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে।

জর্ডান ও তুরস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই দেশেও প্রতিরক্ষা ও সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে, যা আঞ্চলিক কৌশলে বড় ভূমিকা রাখে।

ইরানের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এখন প্রশ্ন উঠছে—লাখ লাখ মিলিয়ন ডলার খরচ করে গড়া এই বিশাল সামরিক নেটওয়ার্ক কি সত্যিই আমেরিকাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে, নাকি যুদ্ধের ভয়েই পিছিয়ে যাবে ওয়াশিংটন?

 

Walton Ads