ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার তেল আবিবে অবস্থিত একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা তেল আবিবের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ‘তেল হাশোমার ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। ওই ঘাঁটিটি মূলত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের সদরদপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

হিজবুল্লাহ জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টার দিকে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের বিভিন্ন শহর ও জনপদে ‘ইসরায়েলি অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, তবে ‘বেশিরভাগই’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহর হামলা জোরদার হওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া লেবাননের অন্তত ছয়টি শহরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে। ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে, ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরান-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে কুর্দিস্তানে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কোমালা এবং অন্যান্য প্রতিবিপ্লবী গোষ্ঠীর ঘাঁটি ও সদরদপ্তরে সফল আঘাত হানা হয়েছে।

গত মাসে নির্বাসিত কয়েকটি কুর্দি-বিরোধী গোষ্ঠী রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাত করা এবং নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীর হাজার হাজার সদস্য ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরানে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে। সিআইএ তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং তারা ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

Walton Ads