ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ইরানের হামলার ভয় দেখেই অধিকাংশ তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এড়িয়ে চলছে।
জ্বালানি বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ভরটেক্সা এবং কেপলার এর পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ভাবে ২৪টি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি ব্যবহার করত।
তবে মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলার জানিয়েছে, ২ ও ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
বড় বড় সামুদ্রিক বীমা কোম্পানি পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজের যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমা বাতিল করায়, এই পথ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চম অংশ এই নৌপথে পরিবাহিত হয়। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা চাইছেন পুরো নৌপথ বন্ধ করা হোক।
কেপলারের প্রধান ফ্রেইট অ্যানালিস্ট ম্যাট রাইট জানিয়েছেন, “অন্যান্য অনেক ধরনের নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হলেও কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করছে। এদের মধ্যে অনেকেই ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ (ব্ল্যাকআউট) করে চলছে।”
গত ২৪ ঘণ্টায় বিবিসি ভেরিফাই অন্তত দুটি কার্গো জাহাজ শনাক্ত করেছে, যেগুলি পূর্ব থেকে পশ্চিমে হরমুজ প্রণালি পার করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
সম্প্রতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজের অনবোর্ড ট্র্যাকারের সংকেত হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে বা জ্যামিং/বিকল করার প্রমাণ মিলেছে।
