দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের পর এবার ট্রাম্পের দৃষ্টি ভিড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের উপকূলে। ‘মাদক সন্ত্রাস’ দমন করার নামে শুরু হওয়া সামরিক হস্তক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

বুধবার (৫ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ‘সাউদার্ন কমান্ড’ ঘোষণা করেছে, ৩ মার্চ থেকে ইকুয়েডরের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন সেনারা। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এটিকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে এক ‘শক্তিশালী উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা একে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আপস করবে না। ইতোমধ্যে নজরদারি ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের নতুন ‘মিলিটারি ম্যানুয়াল’-এ মাদক পাচার আর সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি ‘যুদ্ধ’। বড় বড় মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মার্কিন বাহিনী সরাসরি হামলা চালানোর আইনি সুযোগ পাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অন্তত ৪৪টি বিমান হামলায় ১৫০ জন নিহত হয়েছেন। সমালোচকরা এটিকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে দেখছেন। নিহতদের অনেকের পরিবার দাবি করেছে, তারা সাধারণ মৎস্যজীবী ছিলেন।

ইকুয়েডরের অভিযান বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাত্র দুই মাস আগে ৩ জানুয়ারি, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। জাতিসংঘ একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করলেও ট্রাম্প প্রশাসন কর্ণপাত করেনি। এখন ইকুয়েডরকে মাদক পাচারের ‘আদর্শ রুট’ হিসেবে চিহ্নিত করে একই ধাঁচের অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইকুয়েডর একসময় লাতিন আমেরিকার ‘শান্তির দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে বর্তমানে কলম্বিয়া ও পেরুর কোকেন পাচারের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ট্রাম্পের ‘লোহার মুষ্টি’ নীতি স্বাগত জানিয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন, মেক্সিকো রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প ইকুয়েডরকে সামরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ‘ল্যাবরেটরি’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

ইরানের আকাশ থেকে ইকুয়েডরের সমুদ্র— ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বত্র তৎপর। ‘মাদক নির্মূল’ বা ‘সন্ত্রাস দমন’ যে নামই হোক না কেন, এই নতুন যুদ্ধ-ফ্রন্ট বিশ্বকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আলোচনার চেয়ে এখন বারুদের গন্ধই বেশি তীব্র।

 

news