মধ্যপ্রাচ্যে যেন আগুন জ্বলার আগুন। এরই মধ্যে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মাটিতে একটু আঁচড় লাগলেই এমন জবাব দেবে যে হোশ উড়ে যাবে। দেশটির শীর্ষ নেতাদের দাবি, ইরান এখন আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ, আর কোনও আগ্রাসন সহ্য করা হবে না।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দেশের ভেতরে কোনও ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলে ভুল বুঝবেন। সবাই এক কাতারে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত। তিনি গর্ব করে বলেন, ইরানের জনতা বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী, আর যেকোনো হামলার মোকাবিলায় তারা পাহাড়ের মতো দাঁড়াবে।
স্পিকার আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পেছনে পুরো জাতি আছে। এই সমর্থনই যেন দেশের প্রতিরক্ষাকে আরও শক্ত করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনই চূড়ান্ত সায় দেয়নি তারা। তিনি বলেন, কূটনীতির পথ খোলা থাকলেও ইরান যেকোনো অবস্থার জন্য তৈরি।
অন্যদিকে ইসরায়েল কিন্তু পিছপা নয়। তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানে হামলার সব প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে তারা। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ‘গো–সিগন্যালের’ অপেক্ষা। খবর অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করতে পারে, যা নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রও কিন্তু পিছিয়ে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে তারা। জানা গেছে, বিমানবাহী রণতরিসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কঠোর অবস্থান আঞ্চলিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ভূমিকাই বরং এই উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছে।
