ইরান নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে মিলছে না তাল মিল! একদিকে বলছেন, পারমাণবিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই, আবার পরক্ষণেই দাবি করছেন—প্রচলিত অস্ত্রে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। এমন দ্বিচারিতায় উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘পারমাণবিক হামলা করার দরকারই বা কী?’ প্রশ্নটিকে তিনি উড়িয়েও দেন। কিন্তু তার পরেই তিনি বলেন, ‘সাধারণ সামরিক শক্তিতেই আমরা ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারি।’

শেষের এই কথাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবতার চেয়ে চাপ সৃষ্টির কৌশল বেশি। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি ইরানকে ভয় দেখিয়ে টেবিলে বসাতে চান।

ট্রাম্প আরও জানান, পারমাণবিক হামলা কোনো অবস্থাতেই ঠিক না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো সংঘাত শেষ করতে তাঁর ওপর কোনো চাপ নেই। বরং, তিনি একটি ‘ভালো চুক্তি’ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ইরান রাজি হলে এই জলপথ খুলে দেওয়া হবে। আর ইরান যেন তেল বিক্রি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামাতে না পারে, সেটা আমি নিশ্চিত করব।’

ট্রাম্পের ভাষ্য, এই পরিস্থিতি চললে ইরান প্রতিদিন বিপুল আয় করতে পারবে, যা তিনি বন্ধ করে দিতে চান। সোজা কথায়, চুক্তি না হলে তিনি সামরিক পথে সমাধান করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইরানপন্থী বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের চাল একদম পরিষ্কার—এক হাতে আলোচনার প্রস্তাব, আরেক হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক হুমকি। তাদের দাবি, ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও অর্থনৈতিক কাজে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়ের বিপরীতে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও জিইয়ে রাখবে। আর ইরানও কিন্তু এতে টলছে না। তারা তাদের অবস্থানে আগের মতোই দৃঢ় রয়েছে বলে বার্তা দিচ্ছে।

 

news