ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর কথা বলছে আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ঘোষণা দিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শীঘ্রই তেল আবিব, ওয়াশিংটন আর বৈরুতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বসতে পারে।

কিন্তু ঘোষণার কথা আলাদা, বাস্তব চিত্র একদম উল্টো। লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় এখনো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। আর জবাবে বৈরুতের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ রকেট ছুঁড়ছে।

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, শান্তির সম্ভাবনা আছে, বিষয়টা সহজেই মিটে যেতে পারে। কিন্তু বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—এক মুখে যুদ্ধবিরতি আর অন্য দিকে হামলা চালালে এই বক্তব্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল। এবার সেটি আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প আরও জানান, সম্ভাব্য বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আর লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অংশ নিতে পারেন। তবে তার আগে লেবানন দাবি জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সময় আরও বাড়াতে হবে, তবেই বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ হবে।

লেবাননের তথ্য বলছে, গত মাসে হামলা শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। এই ভয়াবহ মানবিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইরানের সমর্থন পাওয়া হিজবুল্লাহর প্রতি সংহতিও বাড়ছে। পাল্টা প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধবিরতির নামে মানবতার ওপর এ কী নৃশংসতা চলছে?

 

news