পশ্চিমবঙ্গের ভোটগণনায় যেন তৃণমূলের ঘাঁটিতে বাজিমাত করছে বিজেপি। আর এই সাফল্যের নেপথ্যের রহস্য জানিয়েছেন দলের রাজ্য নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, শুধু হিন্দু ভোটারই নয়, আদিবাসী সম্প্রদায়ও এবার ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে বিজেপিকে।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে দল। ক্ষমতায় যেতে ২৯৪ আসনের মধ্যে দরকার ১৪৮টি আসন। আর প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সাল থেকে বাংলায় শাসন করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবার বিদায়ের পথে।
শুভেন্দু এনডিটিভিকে বলেন, “মানুষ অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।” তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সময় থেকেই বিজেপি এটা করার স্বপ্ন দেখছিল, কিন্তু আগে কখনও সেটা সম্ভব হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ বলে অভিহিত করে তিনি বর্তমান সরকারের সময়ে রাজ্যের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আর এই প্রচারণার নেতৃত্ব ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি জনগণকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তাকে ‘পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’ সম্বোধন করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। নারী ভোটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট নারী কিংবা পুরুষ—এভাবে ভাগ হয়নি। তবে হিন্দু নারীরা বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দু আরও জানান, এবার আদিবাসী ভোটেরও বড় অংশ পেয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে, সেখানেও ভোটাররা একই ধারা বজায় রেখেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখন ১৮৯টি আসনে এগিয়ে আছি। এটা বড় ব্যবধান। বাকিটা আমরা সামলে নেব। আগামী দিনগুলোতে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
তৃণমূলের ‘বহিরাগত-ভূমিপুত্র’ বিতর্ককে ‘সস্তা রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই ইস্যুটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একেবারে সস্তা রাজনীতি। জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।”
নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে এবার ভবানীপুরেও তাকে পরাজিত করার সম্ভাবনা ও নিজের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নে শুভেন্দু কৌশলে বলেন, “আমি এই সংবেদনশীল প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করব না। বিজেপি সম্মিলিত নেতৃত্বে বিশ্বাসী। নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা লড়াই করেছি এবং ফলাফল এখন আমাদের সামনে আসছে।”
প্রসঙ্গত, সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালটের পর ইভিএমের ভোট গণনা শুরু হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকা, আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল আর শিল্পাঞ্চলগুলোতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি।
