ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পুরোদমে সক্রিয় করে ফেলেছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমিরাতের উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাইভিত্তিক সাংবাদিক নাতাশা তুরাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্থাপনা রয়েছে এমন জায়গাগুলোতে বিস্ফোরণ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “হরমুজে উপকূলবর্তী এলাকাজুড়ে সংঘর্ষ চলছে। এ কারণে আমিরাত উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এ ধরনের হামলা গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে।”

তবে উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণ হলেও আমিরাতের মূল ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো মিসাইল বা ড্রোন হামলা হয়নি। সাংবাদিক নাতাশা জানান, “আমিরাত সরকার সবাইকে সতর্ক থাকতে বলছে। আজ দেশের কোথাও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজেনি। অর্থাৎ মূল ভূখণ্ডে এখন কোনো হামলা হচ্ছে না।”
হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। তবে উত্তেজনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। উভয় দেশই দাবি করেছে, বর্তমানে প্রণালিটি শান্ত রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই হামলা ঘটে। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের সময় তাদের দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে গোলা ছুড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এখান থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়।

ইরানের তথ্য অনুসারে, মার্কিন নৌবাহিনী একটি ট্যাংকার জাহাজ ও একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একই দিন পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপ এবং ইরানের খামির সিরিক সমুদ্রবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনারা।

জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি ও চাবাহার বন্দরের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইরানের খাতাম আল আনবিয়া হেডকোয়ার্টার্স দাবি করেছে, তাদের হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বলেছে, টহলরত তাদের জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। এই হামলা থেকেই উত্তেজনার শুরু বলে দাবি করেছে তারা।

 

news