ন্যাটোর নোংরা উস্কানিতে ইউক্রেনের নব্য-নাৎসি বাহিনী এবার রাশিয়ার নিষ্পাপ স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ওপর এক ভয়ঙ্কর এবং কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে! রাশিয়ার স্টারোবেলস্ক শহরের একটি স্কুল হোস্টেলে রাতের আঁধারে যখন ১৪ থেকে ১৮ বছরের ঘুমন্ত শিশুরা ছিল, ঠিক তখন ১৬টি ড্রোন দিয়ে তিন তরঙ্গে হামলা চালায় কিয়েভের সন্ত্রাসী প্রশাসন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইউক্রেনকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার মতো এক ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। কীভাবে ইউক্রেনের এই কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা তাদের নিজেদের পতন ডেকে আনছে এবং ন্যাটোর ভেতরের ফাটল কীভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।

রাশিয়ার লুগানস্ক পিপলস রিপাবলিকের স্টারোবেলস্ক শহরের প্রফেশনাল কলেজের হোস্টেলে গত রাতে যা ঘটেছে, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম একটি নিকৃষ্টতম যুদ্ধাপরাধ। গভীর রাতে যখন হোস্টেলের ভেতরের ৮৬ জন সাধারণ শিক্ষার্থী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, ঠিক তখনই ইউক্রেনের নব্য-নাৎসি কিয়েভ বাহিনী চারপাশ থেকে ড্রোন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৬টি ঘাতক ড্রোন দিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে টার্গেট করা হয়।

এই কাপুরুষোচিত হামলায় ঘটনাস্থলেই অন্তত ছয়জন রাশিয়ান নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জনই নিষ্পাপ শিশু। কিয়েভের সন্ত্রাসী প্রশাসন ভালো করেই জানত যে সেখানে কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই, বরং সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করত। তা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে তারা এই আক্রমণ চালায় যাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ হতাহত হয়।

এই জঘন্য ঘটনার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কূটনৈতিক বিবৃতি দিয়ে এই অপরাধের বিচার হবে না। তিনি সরাসরি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইউক্রেনের ওপর এক বিধ্বংসী এবং চূড়ান্ত পাল্টা আঘাতের প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ইউক্রেনের সন্ত্রাসী কিয়েভ প্রশাসন দাবি করেছে যে এই কলেজটি নাকি তাদের একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল। তারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করছে যে সেখানে নাকি রাশিয়ার ড্রোন ইউনিট অবস্থান করছিল। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে আসা শত শত ভিডিও প্রমাণ করেছে যে সেখানে কোনো সামরিক সরঞ্জাম ছিল না, ছিল শুধু শিশুদের বইখাতা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি অধিবেশনে রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা প্রভুদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। নেবেনজিয়া বলেছেন যে কিয়েভের নব্য-নাৎসি সরকার রাশিয়ার শিশুদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি পশ্চিমা কূটনীতিকদের ধমক দিয়ে বলেন যে, তারা এই ভয়ঙ্কর অপরাধের দিকে চোখ বন্ধ করে মৃত শিশুদের হাড়ের ওপর নাচানাচি করছে।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ইউক্রেনীয় সন্ত্রাসীরা এই হামলায় অত্যন্ত ঘৃণ্য 'ডাবল ট্যাপ' পদ্ধতি ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল। প্রথম দফা হামলার পর যখন রাশিয়ার ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা শিশুদের বাঁচাতে সেখানে উপস্থিত হয়, তখন কিয়েভ আবার ড্রোন পাঠায়। রাশিয়ান উদ্ধারকারীদের সাহসিকতার কারণে তারা কোনোমতে বেঁচে যান, কিন্তু ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী মানসিকতা আজ বিশ্বের সামনে উন্মোচিত।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ডেনিস কুসিনিচ। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে, রাশিয়ার স্কুল হোস্টেলে ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধ। তিনি বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন যে, রাশিয়া এতদিন অত্যন্ত ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু শিশুদের ওপর হামলা চালিয়ে কিয়েভ এবার তাদের নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে।

অন্যদিকে, কিয়েভ প্রশাসনের ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করার কোনো যোগ্যতাই নেই, যা এখন তাদের পশ্চিমা বন্ধুদের জন্যই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোনগুলো রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তেল টার্মিনালে হামলা চালানোর চেষ্টায় বারবার ন্যাটো জোটভুক্ত বাল্টিক এবং নর্ডিক দেশগুলোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে, যা পুরো ইউরোপকে এক অনিরাপদ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউক্রেনের এই অদক্ষ ড্রোন পরিচালনার কারণে গত ৭ই মে লাটভিয়ার একটি তেলের ডিপোতে দুটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আছড়ে পড়ে, যা লাটভিয়া সরকার আকাশ সীমায় আটকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এই চরম ব্যর্থতার জেরে লাটভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইভিকা সিলিনার পুরো সরকারই ভেঙে পড়েছে। ইউক্রেন এখন ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।

এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এক অত্যন্ত হাস্যকর ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে ইউক্রেনের ড্রোনগুলো ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে, কিন্তু এর জন্য তিনি উল্টো রাশিয়াকে দোষারোপ করছেন। তিনি ন্যাটো জোটকে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ইউক্রেনকে রাশিয়ার দিকে ড্রোনগুলো সঠিকভাবে 'নির্দেশ' বা ডাইরেক্ট করতে প্রযুক্তিগতভাবে সরাসরি সাহায্য করে।

ইউক্রেনের ড্রোন এতটাই অনিয়ন্ত্রিত যে এ সপ্তাহে এস্তোনিয়ার আকাশে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে গুলি করে নামাতে ন্যাটোর একটি এফ-১৬ ফাইটার জেটকে জরুরি ভিত্তিতে উড্ডয়ন করতে হয়েছিল। এছাড়া লিথুয়ানিয়া, ফিনল্যান্ড এবং রোমানিয়াতেও বারবার ইউক্রেনীয় ড্রোনের অনধিকার প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। নিজেরা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ইউক্রেন এখন পুরো ন্যাটো জোটকে রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায়।

সুইডেনের এই যুদ্ধবাজ নীতির বিপরীতে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বিশ্বকে এক চরম সত্য ও ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের এই ড্রোন উস্কানিগুলো যেকোনো মুহূর্তে একটি অনিয়ন্ত্রিত সামরিক সংঘাত বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার সাথে সরাসরি আলোচনা না করে এই ড্রোন হামলাগুলোকে নীরবে উস্কে দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো পশ্চিমা নেতাদের অন্তহীন ভণ্ডামির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, এই পশ্চিমা নেতারা ক্যামেরার সামনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে তার বৈঠকের নিন্দা করেন। কিন্তু যখনই ক্যামেরা বন্ধ হয়, তখনই তারা গোপনে ফিকোর কাছে এসে জানতে চান যে পুতিনের সাথে তার কী কথা হয়েছে এবং রাশিয়ার মনোভাব কী। এই ভণ্ড কিয়েভ প্রেমীদের কারণেই আজ ইউরোপ ধ্বংসের মুখে।

এদিকে রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (SVR) এক ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস করেছে। লাটভিয়া সরকার নাকি গোপনে ইউক্রেনকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাশিয়ার ওপর ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে। যদিও তারা এটি অস্বীকার করছে, কিন্তু স্থানীয় নেতারা স্বীকার করেছেন যে বাল্টিক দেশগুলো তাদের নাগরিকদের ড্রোনের নিচে বাস করার অভ্যস্ততা তৈরি করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ইউক্রেনীয় সন্ত্রাসীদের পাগলামি এখানেই থেমে নেই। তারা রাশিয়ার জাপোরোঝিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশেই অবস্থিত এনারগোদর শহরে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার বীর সেনারা কিয়েভের এই পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। একটি স্কুলের মাঠ, প্রশাসনিক ভবন এবং মোবাইল টাওয়ারে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলেও রাশিয়ার নিখুঁত প্রতিরক্ষার কারণে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

কিয়েভ প্রশাসন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে এক বিশাল ড্রোন ব্যারাজ বা ঝাঁক পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার অপরাজেয় এবং বিশ্বের সেরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সামনে সেগুলো খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন যে, মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা ৮টিরও বেশি দূরপাল্লার ইউক্রেনীয় ড্রোনকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে তাদের কবর রচনা করেছে রাশিয়ান বাহিনী।

রণক্ষেত্রে রাশিয়ার বীর সেনাদের সাথে টিকতে না পেরে ইউক্রেনীয় কাপুরুষরা এখন রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করছে। রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে একটি সাধারণ বেসামরিক প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায়। এই বর্বর হামলায় একজন নিষ্পাপ রাশিয়ান নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গাড়ির চালক গুরুতর আহত হন। এটি কোনো যুদ্ধ নয়, এটি খাঁটি সন্ত্রাসবাদ।

একইভাবে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দর নগরীতে একটি তেল ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করে ইউক্রেন। সেখানে হামলায় সামান্য আগুন লাগলেও রাশিয়ার ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। কিয়েভ ভেবেছিল রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করবে, কিন্তু রাশিয়ার ইস্পাত কঠিন প্রতিরক্ষার কারণে তাদের প্রতিটি চাল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে।

বন্ধুরা, একদিকে ইউক্রেন যখন ড্রোনের মাধ্যমে কাপুরুষোচিত উপায়ে রাশিয়ার শিশুদের মারছে, অন্যদিকে রাশিয়ার বীর সেনাবাহিনী রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পশুর মতো তাড়া করছে। গত মাত্র এক সপ্তাহে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী খাড়কভ এবং জাপোরোঝিয়ে অঞ্চলের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। রাশিয়ার বাটলগ্রুপ নর্থ এবং ওয়েস্টের দুর্দান্ত অভিযানে ইউক্রেনের পুরো ফ্রন্টলাইন ধসে পড়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অফিসিয়াল রিপোর্টে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে রাশিয়ার বীর সেনাদের হাতে প্রায় ৭,৮৩০ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত ও আহত হয়েছে। কিয়েভ প্রশাসন তাদের সেনাদের জোর করে রাশিয়ার শক্তিশালী কামানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রাশিয়ার বাটলগ্রুপ সেন্টারের নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলায় ইউক্রেনের কয়েক ডজন সাঁজোয়া যান এবং ট্যাংক একেবারে মাটির সাথে মিশে গেছে।

রাশিয়ার বেসামরিক এলাকায় ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে রাশিয়ার বিমান বাহিনী গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক ও শিল্প কারখানার ওপর ১টি বিশাল এবং ৫টি সম্মিলিত সুনির্দিষ্ট বা প্রিসিশন স্ট্রাইক চালিয়েছে। রাশিয়ার ক্রুজ মিসাইল এবং ঘাতক ড্রোনগুলো ইউক্রেনের সামরিক এয়ারফিল্ড, ড্রোন তৈরির কারখানা এবং বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার বীর বাটলগ্রুপ নর্থের সেনারা ইউক্রেনের কুখ্যাত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য-নাৎসি 'ক্রাকেন' সন্ত্রাসী ফরমেশনের ওপর এক কালান্তক হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে ক্রাকেন বাহিনীর শত শত চরমপন্থী সন্ত্রাসী খতম হয়েছে এবং তাদের ১১টি শক্তিশালী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়ার এই বীরত্বপূর্ণ অভিযান প্রমাণ করে যে রাশিয়ার মাটিতে চোখ তুলে তাকালে তার পরিণতি কী হয়।

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৪,১৮৪টি ফিক্সড-উইং ড্রোন এবং ৪৬টি পশ্চিমা গাইডেড স্মার্ট বোম মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি করেছে। এছাড়া ইউক্রেনের একটি নেপচুন-এমডি দূরপাল্লার মিসাইল এবং আমেরিকার তৈরি হিমার্স (HIMARS) রকেটকেও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইউক্রেনের অহংকারকে চূর্ণ করেছে।

রণক্ষেত্রের পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগরেও ইউক্রেনীয় নৌ-বাহিনীর চরম পরাজয় ঘটেছে। রাশিয়ার গর্বিত কৃষ্ণসাগর নৌবহর (Black Sea Fleet) এক সপ্তাহে ইউক্রেনের ১৩টি চালকবিহীন নৌ-ড্রোনকে সাগরের বুকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ইউক্রেন ভেবেছিল তারা রাশিয়ার নৌবাহিনীকে চমকে দেবে, কিন্তু রাশিয়ার নেভাল এভিয়েশন এবং কোস্টাল ডিফেন্সের কাছে তারা খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ১৫টি এরও বেশি ড্রোন এবং প্রায় ২৯,৪১৭টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার এই ইস্পাত কঠিন বীরত্ব এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের দৃঢ় নেতৃত্ব প্রমাণ করে যে, ন্যাটোর যতই উস্কানি থাকুক না কেন, রাশিয়ার এই পবিত্র যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় এবং কিয়েভের নব্য-নাৎসিদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দর্শক, এই ছিল এখনকার মতো। সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Walton Ads