পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মৃত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে রায়িসির ফোনালাপ

ইরানে পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা যাওয়া তরুণী মাহসা আমিনির পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এ তদন্তের খোঁজখবর রাখছেন।

প্রকাশ্য স্থানে হিজাব পরিধান করার আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করায় গত মঙ্গলবার রাজধানী তেহরান থেকে ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের অধিবাসী মাহসা আমিনিকে আটক করা হয়।পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তেহরানের একটি হাসপাতাল ভর্তি করা হয় এবং এর তিন দিন পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

২২ বছর বয়সি আমিনির মৃত্যুর সময় প্রেসিডেন্ট রায়িসি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে উজবেকিস্তান সফরে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরে গতকাল (রোববার) আমিনির বাবা-মা’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাদেরকে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে রায়িসি বলেন, তিনি মাহসার মৃত্যুর ব্যাপারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রেখে তদন্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াহিদি সাংবাদিকদের জানান, মাহসা আমিনির মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। থানায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে তা নাকচ করে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাকে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি হেফাজতে আমিনির শরীরে কোনো আঘাত করা হয়নি। ওয়াহিদি বলেন, গ্রেফতার থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি করা পর্যন্ত মাহসা আমিনি নারী পুলিশদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং সেখানে তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ইরানে মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশ্যে বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের বিরোধীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা হিজাব পরিধানের বাধ্যতামূলক বিধান তুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে নারীদের প্রকাশ্যে হিজাব পরার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয় যা ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো কখনই ভালো চোখে দেখেনি।
খবর পার্সটুৃডে/এনবিএস/২০২২/একে news