ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদে এক বছরে ১ হাজার কোম্পানির রাশিয়া ত্যাগ
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরু হওয়ার পর গত এক বছরে প্রায় এক হাজার কোম্পানির চাইতেও বেশি স্বেচ্ছায়প্রবৃত্ত হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। তারা চলে যাওয়ার পর রাশিয়ার কনজ্যুমারদের অভ্যাসেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর এসব কোম্পানিগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়, তারা কি করবেন। যুদ্ধের প্রতিবাদে তারা রাশিয়া ত্যাগ করবেন, নাকি ব্যবসা অব্যাহত রেখে বিশ্বের মানুষের কাছে তাদের পণ্যের খ্যাতি নষ্ট করবেন। রুশ সেনারা ইউক্রেনে প্রবেশ করার পরপরই কিছু কোম্পানি রাশিয়া ত্যাগ করে। কিছু কোম্পানি দোদুল্যমানতায় থাকে। পরে জনগণের চাপের মুখে তারাও রাশিয়া ত্যাগ করে।
এখনো সেখানে অনেকেই ব্যবসা করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কিছু কোম্পানি রাশিয়ায় তাদের ব্যবসা বাড়িয়েছে। যারা রাশিয়া ত্যাগ করেছে তাদের ব্যবসাকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকেই রাশিয়া ত্যাগ করেছে। আবার কিছু রয়েও গেছে দেশটিতে।
মার্কিন ফার্স্ট ফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ড প্রথমে কয়েকটি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয়। পরে স্থায়ীভাবে তারা রাশিয়া ত্যাগ করে। ম্যাকডোনাল্ডের সিইও খ্রিস কেম্পজিনস্কি বলেছেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের একটা অঙ্গীকার আছে, সেটা আমরা রক্ষা করে চলতে চাই।’ ম্যাকডোনাল্ড ৮৫০টি রেস্তোরাঁই বিক্রি করে দিয়েছে।
ফিনল্যান্ডের দুধ ব্যবসায়ী ভালিও রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান শুরু করার দুই সপ্তাহ পরই ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। তারা বলেছে, একটি স্বাধীন দেশের উপর হামলা চালানোর নিন্দা জানায় তারা। ভালিও বিক্রি হয় রাশিয়ার ভেলকম গ্রুপের কাছে। ফ্রান্সের ফ্রোজেন ও ক্যানড শাকসব্জি বিক্রেতা বান্ধুয়েলে রাশিয়াতে থেকে গেছে। এই কোম্পানিতে কাজ করে প্রায় এক হাজার লোক।
জাপানের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি নিশান গত বছরের মার্চ মাস থেকেই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তার পরও তারা সাত মাস চিন্তাভাবনা করার পর স্থানীয় কোম্পানির কাছে ব্যবসা হস্তান্তর করে দেয়। এছাড়াও রয়েছে ইউনাইটেড কলর্স অব বেনেট্টন, ফিলিপস, ওয়েলা, কোফিক্স ও এল’ওকাটেইনও থাকা ও নাথাকার মধ্যে রয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি