ইউক্রেন যুদ্ধ: রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের এক বছর পর কি ঘটতে যাচ্ছে
রাশিয়া অথবা ইউক্রেন শান্তিপূর্ণ পন্থায় যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজী না হলে কি ঘটতে পারে তা নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেছেন এক জার্মান বিশেষজ্ঞ। এক বছরের যুদ্ধে দু’পক্ষের হাজার হাজার সেনা নিহত হয়েছে। মারা গেছে হাজার হাজার অসামরিক মানুষও। এ যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে মস্কো ও পাশ্চাত্যের মধ্যে উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে তার সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দানকে সঠিক বলে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন পোলান্ডে অবস্থান করছেন।
এদিকে ্ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি খেরসনে রাশিয়ার হামলার ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে জাতির উদ্দেশ্যে জা¦ালাময়ী ভাষন দিয়েছেন। এ হামলায় এক তরুনীসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল শুক্রবার। বিশ্ব এখনো এ যুদ্ধ বন্ধের ও শান্তির কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না। তাই দেখার বিষয় যুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়।
‘ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ের হাতে যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র আছে’
জার্মানির ব্রেমেন ইউনিভার্সিটির ঐতিহাসিক নিকোলে মিট্রোখিন বলেন, “আসল চিত্র হলো এ যুদ্ধে রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউই তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে না। রাশিয়া বড়জোর গোটা ডনবাস (দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল} দখল করে নিতে পারবে। যা রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনকে ধ্বংস করার পথ প্রশস্ত করবে।” তিনি বলেন, “ইউক্রেন ২০১৪ সালের আগের সীমান্ত আর ফিরে পাবে না। ঐ বছর রাশিয়া দেশটি ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল ও রাশিয়ার সাথে একীভূত করে নেয়। রাশিয়া ডনবাসের বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সমর্থন দিচ্ছে।
নিকোলে মিট্রোখিনের মতে, যুদ্ধ ২০২৩ সালের শেষে অথবা ২০২৪ সালে শেষ হতে পারে। এর কারণ হলো নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের মতো যথেষ্ট অস্তশস্ত্র, সেনা ও জনবল কারোরই নেই।
রাশিয়া বর্তমান রণরেখার উত্তরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা লাইন ভেঙ্গে ফেলবে। এবং লেম্যান শহরটি দখল করে নেবে। অর্ধচন্দ্রাকৃতির এলাকাটি ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর রাশিয়া দক্ষিনের রণরেখা ভেঙ্গে ফেলে জাফোরিজঝিয়া নগরী অবরোধ করবে।”
তিনি বলেন, ্গুলোর প্রতিরক্ষা ভাঙ্গার পর কেন্দ্রের (রণরেখা) ক্রামাটোর্স্ক ও স্লোভিয়ানস্ক (শহর) পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। সম্ভবত এরপর তারা ইউক্রেনের সাথে একটি স্থিতিশীল শান্তিচুক্তির প্রস্তাব করবে।
নিকোলে মিট্রোখিন বলেন,“ সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যে দৃশ্যটি আমি আঁচ করতে পারছি তা হলো, দক্ষিণ রণাঙ্গনে প্রচন্ড লড়াই সত্ত্বেও তা স্থিতিশীল ও অপরিবর্তিত থাকবে। রাশিয়ার বাহিনী ক্রামাটোর্স্ক ও স্লোভিয়ানস্ক পর্যন্ত পৌঁছুতে পারলেও তা দখল করতে পারবে না। তবে উত্তর রণাঙ্গনের লেম্যান শহরটি তারা দখল নিতে হয়ত সক্ষম হবে।”
আশাবাদী দৃশ্য হলো: ইউক্রেনের বাহিনী দক্ষিন রণাঙ্গনে রাশিয়ার বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দেবে এবং দনিয়েপার নদী বরাবর ছত্রি সেনাদের সফল ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষিণ ইউক্রেনকে পুরোপুরি বা অংশিকভাবে মুক্ত করতে পারবে।
নিকোলে মিট্রোখিন বলেন, উত্তর রণাঙ্গনে রাশিয়া সভেতভি শহর দখল করে নিতে সক্ষম হতে পারে মস্কো। এরপর তারা লাইসিচানস্ক-সেভেরোডোনেটস্ক এর কাছে এসে সমবেত হতে পারে। এরপর রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির সীমান্তে বা তারও পেছনে দক্ষিনের দখলকৃত অঞ্চলে সেনা ফিরিয়ে নিতে পারে। এ পর্যায়ে এসে পাশ্চাত্য ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখার শর্তে শান্তি ও ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেবে।
তার মতে, ইউক্রেন এতে রাজি না হলে সংঘাত চলতে থাকবে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে কিয়েভ ক্রিমিয়া ব্রিজ ধ্বংস করে দিতে পারে। কের্চ উপদ্বীপের উপর নির্মিত ব্রিজটি হলো রুশ ভূখন্ডের সাথে ক্রিমিয়ার একমাত্র যোগাযোগ পথ। তিনি বলেন, অসামরিক বিমান চলাচলের অনুপস্থিতি ও ইউক্রেনের ড্রোন হামলার মধ্যে নৌপথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ক্রিমিয়ার ওপর ব্যয় বহুল নিয়ন্ত্রণ মস্কোর জন্য আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুতিন ইউক্রেনে কৌশলগত পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর পূর্বোক্ত শর্তগুলোর আলোকে অথবা মস্কোর পক্ষ থেকে আরও কঠোর শর্তাধীনে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতে পারে। যুদ্ধে যদি ইউক্রেন জিতে যায় তাহলে রাশিয়া অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করেন নিকোলে মিট্রোখিন।
এনবিএস/ওডে/সি