ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে বার্লিন ও  প্যারিসে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের প্রথম বর্ষপুর্তির পরের দিন শনিবার দেশটিতে শান্তির দাবিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও জার্মানির রাজধানী বার্লিনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভকারীরা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করার তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা, শান্তি আলোচনা শুরু এবং যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি জানান।

সমাবেশের আগে আয়োজকরা তাদের বক্তব্যে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ই্উক্রেনের ভূখন্ড রক্ষার অধিকারকে যারা খাটো করে দেখছে তাদের সমালোচনা করেন। চরম ডানপন্থীদের থেকে তারা নিজেদেরকে দূরত্ব বজায় রাখেন। এসব চরম ডানপন্থীরা রাশিয়াপন্থী ধ্যানধারণা লালন করে থাকে।
আয়োজকদের একজন হলেন বিরোধী দলীয় এমপি সাহরা ওয়াজেন্কনেশৎ। তিনি এক্স-কমিউনিস্ট লেফট পার্টির সদস্য। ওয়াজেন্কনেশৎ বলেন, “নয়া নাৎসীবাদীদের কোন স্থান নেই এ সমাবেশে। তবে খোলা মনে যারা শান্তি কামনা করে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই।”

বিক্ষোভকারীদের বহন করা অধিকাংশ প্লাকার্ডে ঐতিহ্যবাহী বাম দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়। কিছু প্লাকার্ডে লেখা ছিল, “আমেরিকা গো হোম” বা যুক্তরাষ্ট্র স্বদেশে ফিরে যাও। ফার-রাইট ম্যাগাজিনের লগো  কোন কোন প্লাকার্ডে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার রাশিয়ার পতাকাও বহন করে।

ওয়াজেন্কনেশৎ “রাশিয়াকে ধ্বংস” করার চেষ্টা করার জন্য জার্মান সরকারকে দোষারোপ করে বলেন, শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য মস্কোর কাছে “প্রস্তাব” দিতে হবে।

আরেক আয়োজক বিশিষ্ট নারীবাদী এলিস শয়ারজের বলেন, এখন বাম-ডানের বাইরে দৃষ্টি দেয়ার সময় এসেছে।এ দুজন মহিলা একটি আবেদন জানিয়ে দাবি করেছেন যে, তারা তাদের এ আবেদনে ৬৪৫,০০০ জন স্বাক্ষর করেছে।

তিনি ও ওয়াজেন্কনেশৎ যখন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনালেনা বায়েরবকের নাম উচ্চারণ করেন তখন বিক্ষোভকারীর সশব্দে তার উপহাস করেন। বায়েরবক ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের একজন কড়া সমর্থক।

পুলিশ জানায় বার্লিনের বিক্ষোভে ১৩,০০০ মানুষ অংশ নেয়।  তবে আয়োজকরা এ সংখ্যা ৫০,০০০ বলে দাবি করে। কয়েকটি ছোট ছোট পাল্টা সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

গত শুক্রবার ইউরোপজুড়ে হাজার হাজার মানুষ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্যারিসে শনিবারের বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগদানকারীরা ইউক্রেনের জাতীয় সঙ্গীত গায়।

জার্মান চ্যান্সেলার ওলাফ শোলজ সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বর্তমানে শান্তি আলোচনার কোন সম্ভাবনা নেই।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads