লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনে জামায়াত ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ দাবি করেছেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত নিশ্চিত, আর না দিলে গুনাহ হবে। নিজ এলাকায় গণসংযোগের সময় দেওয়া বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
গণসংযোগে হাফিজ উল্যাহ বলেন, মা-বোনদের জন্য বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা থাকলেও মানুষ সেগুলো ঠিকমতো পাচ্ছে না। জেলে কার্ড থাকলেও সুবিধা মিলছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর তিনি বলেন, একদল দুর্নীতি করতে করতে শেষ, আরেকদল আবার দুর্নীতিতে ফিরতে প্রস্তুত। তাদের দলের মাধ্যমে দুর্নীতি হবে না—এমন আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের পক্ষে, কোরআনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোটাররা সওয়াবের ভাগী হবেন এবং জান্নাত অবধারিত হবে। আর কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দিলে গুনাহগার হবেন বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্যরা নির্বাচিত হলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করবে।
এ ধরনের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকে ইমরান হোসেন শাকিল লেখেন, “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত! না দিলে গুনাহ—জামায়াত প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ (নাউজুবিল্লাহ)।” শাহ আলম সম্রাট লিখেছেন, দাঁড়িপাল্লার এমপি প্রার্থীরা জান্নাত দেওয়ার দাবি করছেন—নাউজুবিল্লাহ।
মো. মাইন উদ্দীন লেখেন, এভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি যদি জান্নাতের টিকিট দিতে পারেন, তাহলে আমি প্রথম ভোট আপনাকেই দেব।”
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী থাকলেও সক্রিয়ভাবে ভোটের মাঠে আছেন চারজন। তারা হলেন বিএনপির এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা), বাসদের এডভোকেট মিলন মণ্ডল (মই) এবং জামায়াতের এ আর হাফিজ উল্যাহ (দাঁড়িপাল্লা)।
