ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ের পরই রাজনৈতিক সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী নজির গড়লেন তিনি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় ফুল নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মাসুদ সাঈদী।
নির্বাচনে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন।
মাসুদ সাঈদী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে আমাদের পিরোজপুর। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন নয়, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি।”
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয়-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে তিনি নেতাকর্মীদের বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। “নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বরং বিনয়ী করে”— এমন আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এ দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।”
সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। রাজনৈতিক সহনশীলতার এই বার্তা স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেনসহ অনেকে।
সব মিলিয়ে জয় উদ্যাপনের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় ফুল নিয়ে যাওয়া— পিরোজপুরের রাজনীতিতে এটি হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
