রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। তারেক রহমান গিয়েছিলেন শফিকুর রহমান-এর বাসায়। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিএনপির চেয়ারম্যান জামায়াত আমিরের আবাসিক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
দুই নেতার এই সাক্ষাৎ মূলত সৌজন্য হলেও, সেখানে সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
ফেসবুকে বিস্তারিত জানালেন জামায়াত আমির
সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনার বিষয় জাতিকে জানান জামায়াত আমির। তিনি লেখেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের এ আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন
জামায়াত আমির বলেন, তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি জানান, জামায়াত ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে মিলেই একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
সহিংসতা রোধে আশ্বাস
শফিকুর রহমান আরও জানান, আলোচনায় তারেক রহমান তাকে আশ্বস্ত করেছেন—নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই আশ্বাসকে তিনি সাধুবাদ জানান এবং প্রত্যাশা করেন, কোনো নাগরিক যেন ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।
সরকারকে সহযোগিতা, তবে আপস নয়
জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন জামায়াত আমির। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে ১১-দলীয় জোট সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আপসহীন থাকবে।
তার ভাষায়, “সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু যেখানে জবাবদিহিতা প্রয়োজন, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, সংশোধন; বাধা নয়, পর্যবেক্ষণ।”
সব মিলিয়ে, এই সাক্ষাৎ দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
