তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের ১৫ দিন পার হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে আসছেন?
দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্র ও সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে এগিয়ে খন্দকার মোশাররফের নাম
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন কাউকে বসানোর বিষয়ে দলের ভেতরে এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো তিন-চারজন যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ না হলে এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা কেন?
স্পিকার পদে আলোচনায় তিন নাম
অন্যদিকে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। সেই অধিবেশনের শুরুতেই নির্বাচন করতে হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার।
স্পিকার পদের জন্য যে তিনটি নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে সেগুলো হলো—
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক
বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন
দলের ভেতরে আলোচনা অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সংসদীয় বিধিবিধানে দক্ষ হওয়ায় জয়নুল আবেদীনের নাম বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংসদ উপনেতা পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টি এখনো কিছুটা অস্পষ্ট। বর্তমান সংবিধানে এই পদের সরাসরি বিধান না থাকলেও অতীতে এর নজির রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংবিধানে উল্লেখ না থাকলেও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এই পদের প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ডেপুটি স্পিকার পদ যাবে বিরোধী দলে
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে দেওয়া হবে।
এই লক্ষ্যে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
শেষ সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে
সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়।
সংসদ সচিবালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে প্রস্তাব জমা দিতে হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি—দুই পদেই সরকারি দলের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হবে।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভারসাম্য রেখে তারেক রহমানই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন।
