রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে T20I ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তান শুধু ট্রফিই জেতেনি, তারা জন্ম দিয়েছে এক তীব্র নাটক, উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্তের।

ফাইনালে পাকিস্তানের বোলাররা ছিল বিধ্বংসী। তারা শ্রীলঙ্কাকে মাত্র পাঁচ বল বাকি থাকতেই ১১৪ রানে গুটিয়ে দেয়। শ্রীলঙ্কার পক্ষে কামিল মিশারা একাই ফিফটি হাঁকিয়ে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ নওয়াজ এবং শাহিন আফ্রিদি দু'জনেই তিনটি করে উইকেট নেন।

তবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল শ্রীলঙ্কার ইনিংসের সময় ঘটে যাওয়া এক মুহূর্ত, যা সবাইকে হতবাক করে দেয়।

নাটক শুরু হয় ১৯তম ওভারের প্রথম বলে, যখন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা শাহিন আফ্রিদির ওপর চড়াও হতে যান। শাহিনের একটি স্লোয়ার বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে ওপরে উঠে যায়।

শর্ট থার্ড অঞ্চল থেকে ফখর জামান বলটির দিকে চোখ রেখে পূর্ণ গতিতে দৌড়ে এসে লম্বা ডাইভ দেন। ডাইভ দিয়ে মাটিতে পড়ার পর ফখর বল হাতে নিয়ে উঠতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো পাকিস্তান দল। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড!

থার্ড আম্পায়ার রশিদ রিয়াজ একাধিক অ্যাঙ্গেল থেকে রিপ্লে দেখেন এবং একটি 'শকিং' সিদ্ধান্ত দেন: ফখর জামান মাটিতে পড়ার সময় বলটি মাটিতে ছুঁয়েছিল! সঙ্গে সঙ্গে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। শানাকাকে নট আউট ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তে পুরো পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা হতবাক হয়ে যান এবং মাঠের পরিবেশ হঠাৎ করেই পাল্টে যায়।

ফখরের চোখে-মুখে স্পষ্ট হতাশা নিয়ে মাঠের আম্পায়ারদের দিকে এগিয়ে যান, আর শাহিন আফ্রিদি একই সঙ্গে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে আম্পায়ারের বক্সের দিকে তাকিয়ে থাকেন। যখন মাঠের ভেতরে আবেগ উত্তাল, ঠিক তখনই পাকিস্তান একই ওভারের পরের বলেই তাদের তাৎক্ষণিক 'প্রতিশোধ' খুঁজে নেয়।

পরের ডেলিভারিতে শাহিন আফ্রিদি আবারও একটি স্লোয়ার বল করেন। শানাকা এবার বলটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝেন, আর উইকেটের বেল জ্বলে ওঠে! এইবার পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ফোরক।

শাহিন আফ্রিদি দু'হাত দু'পাশে ছড়িয়ে দেন এবং আম্পায়ারের বক্সের দিকে ফিরে স্পষ্ট ইঙ্গিতে প্রশ্ন করেন— এবার কি সত্যিই আউট? এমনকি ফখর জামানও দ্রুত দৌড়ে এসে দু'হাত উঁচিয়ে শাহিনের সঙ্গে যোগ দেন।

আগের সিদ্ধান্তের হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া ক্ষোভকে তাঁরা মাঠে প্রকাশ করেন এবং সরাসরি থার্ড আম্পায়ারের দিকে ইঙ্গিত করে নাটকীয় উল্লাস করেন!


এর আগে শ্রীলঙ্কা ৮৪ রানে ১ উইকেট নিয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও, একবার চাপ শুরু হতেই সব ভেঙে পড়ে। উইকেট একের পর এক পড়তে থাকে এবং তারা মাত্র ২০ রানের জন্য ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯.১ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়। কামিল মিশারার ৪৭ বলে ৫৯ রানের লড়াকু ইনিংসটিই ছিল দ্বীপরাষ্ট্রটির একমাত্র ইতিবাচক দিক।

জবাবে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সাইম আইয়ুব ৩৬ রান করেন এবং বাবর আজম শান্তভাবে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে।

পাকিস্তান আট বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ১১৮ রান করে ঘরের মাঠে ঘোষণা করে এবং ট্রফি তুলে নেয়। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে আফগানিস্তান আগেভাগেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

পাকিস্তান পরের বছর ১০ জানুয়ারি থেকে ডাম্বুলার রঙ্গিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের T20I সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে।

 

Walton Ads