ভারতের ক্রিকেটের দুই মহাতারকা—রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। যারা দেশকে এনে দিয়েছেন অগণিত সাফল্য, অথচ টেস্ট ও টি–২০ থেকে অবসরের পর এ দুই কিংবদন্তিকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। অনেকে প্রশ্ন তোলে—তাঁরা নাকি ওয়ানডেতেও আর প্রয়োজনীয় নন! স্বাভাবিকভাবেই এই আচরণে দুই তারকাই ছিলেন ক্ষুব্ধ।
এর আগে দু’জনেই টি–২০ ও টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। টি–২০-তে পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকলেও, অনেকেই মনে করতেন—ভারতীয় টেস্ট দলে এখনো বিরাট–রোহিতকে দরকার ছিল।
বর্ডার–গাভাস্কার সিরিজে বিরাটের ব্যাটে শুরুতে সেঞ্চুরি এলেও পরে আর বড় রান পাননি। রোহিতের গড়ও নেমে আসে এক অঙ্কে।
সোশ্যাল মিডিয়ার কাদা ছোড়ায় বিরক্ত রোহিত–বিরাট
নতুন ডব্লিউটিসি চক্র শুরুর সময় অবসর ঘোষণার পর রোহিত ও বিরাট দেখে হতবাক—বিসিসিআই ও নির্বাচকরা নাকি তাঁদের ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দেহ করছে!
আর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ‘টিম থেকে বাদ’–আলোচনা, যা দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে তীব্রভাবে বিরক্ত করে।
জবাবে দু’জনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন।
রোহিত ওজন কমিয়ে তিন ম্যাচে ২০০+ রান করে সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হন। শেষ ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেন, পাশে ছিলেন বিরাট কোহলি—অপরাজিত হাফ–সেঞ্চুরি নিয়ে।
বিসিসিআই ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ‘লড়াইয়ে নামছেন’ বিরাট–রোহিত
ভারতীয় সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তা দাবি করেছেন—বিসিসিআই ও টিম ম্যানেজমেন্টের আচরণে ক্ষুব্ধ বিরাট ও রোহিত এবার নীরব থাকবেন না।
তার ভাষায়—
“সত্যটা হলো, রোহিত ও বিরাট গত কয়েক মাস ধরে খুশি ছিলেন না। মিডিয়া–সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠা—তাঁরা বাদ পড়বেন কি না—এসব নিয়ে তাঁরা মোটেও খুশি ছিলেন না।”
তিনি আরও বলেন,
“এখন মনে হচ্ছে তাঁরা লড়াই করে ফেরত আসতে চান। রোহিত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বিরাটও যোগ দিয়েছেন। তাঁরা ২০২৭ ODI বিশ্বকাপের আগে বিদায় নিতে চান না।”
দুই কিংবদন্তি যখন সরাসরি ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ করছেন, তখন সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় পড়বেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার।
তিনি বলেছিলেন—বয়স ও ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগের কারণেই রোহিত–বিরাটের নির্বাচন “পর্যালোচনায়” ছিল।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই দুই সিনিয়র দেখিয়ে দিয়েছেন—তাঁরা এখনো ভারতের সবচেয়ে বড় ম্যাচউইনার। আর এবার যদি লড়াইয়ে নামে দুই তারকা, তাহলে আগারকারের সামনে কঠিন প্রশ্ন উঠবে এটা নিশ্চিত।