ক্রীড়া ডেস্ক: সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি ২০২৫-এ অভিমন্যু ঈশ্বরণের বিস্ফোরক ইনিংসের পর ভারতীয় নির্বাচকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ঈশ্বরণ আবারও মনে করিয়ে দিলেন যে, কেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম ভরসাযোগ্য পারফর্মার।
ঈশ্বরণের অবিশ্বাস্য ১৩০ রান: বাংলার এই তারকা ব্যাটসম্যান পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মাত্র ৬৬ বলে ১৩০ রানের এক শ্বাসরুদ্ধকর অপরাজিত ইনিংস খেলেন। জিমখানা গ্রাউন্ডে খেলা ঈশ্বরণের এই অসাধারণ ইনিংসে ছিল ১৩টি বিশাল বাউন্ডারি ও ৮টি ছক্কা। অভিষেক শর্মার রেকর্ড গড়া আক্রমণের পর পাহাড়সম ৩১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিনি একাই লড়েছেন এবং দলের মোট রানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্কোর করেন।
পাঞ্জাবের বিশাল জয়, তবুও ঈশ্বরণ নায়ক: এর আগে, অভিষেক শর্মা পাঞ্জাবের হয়ে বাংলার বিপক্ষে মাত্র ৫২ বলে ১৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। এই ইনিংসে ছিল ৮টি বাউন্ডারি ও ১৬টি ছক্কা। তবে, ব্যাট হাতে ঈশ্বরণের এই বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলার। ৩০ নভেম্বর পাঞ্জাব ১১২ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচটি জেতে। ঈশ্বরণ ছাড়া বাংলার আর মাত্র একজন (আকাশ দীপ - ৩১) দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।
কেন নির্বাচকদের ওপর ক্ষেপেছেন অশ্বিন? ঈশ্বরণের এই ব্যাটিং মাস্টারক্লাস সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আসলে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা সত্ত্বেও এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের জন্য নিয়মিতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজেও ঈশ্বরণকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু তিনি নীরবে তার ব্যাট দিয়ে কথা বলছেন। রঞ্জি ট্রফি ২০২৫-২৬ সিজনও তিনি দারুণভাবে শুরু করেছিলেন, আর এখন SMAT-এ তার এই বীরত্ব তাকে আবার পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে।
অশ্বিনের সরস কটাক্ষ: রবিচন্দ্রন অশ্বিন অভিমন্যু ঈশ্বরণের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি ২০২৫-এর পারফরম্যান্সকে ব্যবহার করে ভারতীয় টেস্ট দল নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতিকে কটাক্ষ করেছেন। এই পদ্ধতিতে লাল বলের ধারাবাহিকতার চেয়ে সাদা বলের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে অশ্বিনের অভিযোগ।
সাবেক এই অফ-স্পিনার ব্যঙ্গাত্মকভাবে জাতীয় নির্বাচকদের অনুরোধ করেছেন যে, যেহেতু ঈশ্বরণ এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও সেঞ্চুরি করেছেন, তাই অন্তত এবার যেন তাকে টেস্টের জন্য বিবেচনা করা হয়।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেন, "অভিমন্যু ঈশ্বরণ এখন টি-টোয়েন্টিতেও সেঞ্চুরি করেছে। এখন আমরা তাকে অবশ্যই দেখতে পাব। যেহেতু সে এখন টি-টোয়েন্টিতে রান করেছে, নিশ্চিতভাবেই এবার তাকে টেস্ট দলে দেখতে পাব।"
অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে ঈশ্বরণের: রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবসরের পর ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে একটি বড় পরিবর্তন এলেও, বাংলার এই ওপেনার এখনও তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টেস্ট ডেবিউ পাননি। উল্টে তাকে বেশিরভাগ সময়ই ব্যাকআপ বা ইন্ডিয়া 'এ' সফরে পাঠানো হয়, আর অন্য খেলোয়াড়দের তার আগে দলে সুযোগ দেওয়া হয়।
ঈশ্বরণের পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন অনেক সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মনে করেন তার একটি সুযোগ পাওয়া উচিত। বাংলার এই তারকা ১০৯টি প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচে ৪৭.৮৫ গড়ে ৮১৩৬ রান করেছেন এবং ২৭টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, যা লাল বলের ক্রিকেটে তার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।
এর আগে ঈশ্বরণ স্বীকার করেছিলেন যে, ভারতের হয়ে অভিষেকের জন্য এই অপেক্ষা তার জন্য কঠিন, কিন্তু পরিবার, বন্ধু এবং কোচের সমর্থন তাকে অনুপ্রাণিত রাখে। তিনি এখন নতুন রঞ্জি মরসুম এবং তার সাদা বলের খেলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি বাংলাকে SMAT ২০২৫-এর শুরুতেই দুটি জয় এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু পাঞ্জাব অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে তাদের সেই জয়ের ধারা থামিয়ে দেয়।
