একই পরিবার থেকে একাধিক ক্রিকেটার বের হওয়ার গল্প মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। আয়ারল্যান্ড দলেও দুই ভাইকে একসাথে খেলতে দেখা গেছে— কেভিন ও নেইল ও’ব্রায়েন আইরিশ ক্রিকেটের রূপকথার অংশ। কিন্তু এবার আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটে দেখা যাচ্ছে আরও দুই ভাইকে, তারা টেক্টর পরিবারের সন্তান।

মজার ব্যাপার হলো, টেক্টর পরিবারের চার ভাই-বোনই ক্রিকেট খেলেন। তাদের বাবাও ক্রিকেট খেলতেন, তবে বেশিদিন খেলার সুযোগ পাননি। এখন হ্যারি ও টিম টেক্টর বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলছেন।

আর তাদের ছোট বোন অ্যালিস টেক্টর রয়েছেন নারী দলে। বড় ভাই জ্যাক টেক্টরও আয়ারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কত্ব করেছিলেন। কাজেই এই পরিবারের আড্ডায় ক্রিকেটই প্রধান আলোচনার বিষয় হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

টিম টেক্টর মাত্র দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তিনি ১৯ বলে ৩২ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচে আরও ভালো করেন, ২৫ বলে করেন ৩৮ রান। এমন পারফরম্যান্সের পর আয়ারল্যান্ড দলও তাকে নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে বড় ভাই হ্যারি টেক্টর রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তিনি প্রথম ম্যাচেই ৪৫ বলে ৬৯ রানের দাপুটে ইনিংস উপহার দেন। চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলার আগে সংবাদ সম্মেলনে টিম তাদের পারিবারিক ক্রিকেট ইতিহাসের কথা খুলে বলেন।

টিম বলেন, 'আমরা সবাই অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট খেলে আসছি। আমাদের বড় ভাই জ্যাক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করেছিল— আমার মনে হয় সেটাই এখানে, বাংলাদেশেই হয়েছিল। তারপর হ্যারি তার যুব বিশ্বকাপে অধিনায়ক ছিল, আর আমিও একই কাজ করেছি। আমাদের ছোট বোন অ্যালিসও এখন নারী দলে জায়গা করে নিয়েছে।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা সবাই ক্রিকেট খেলতে খেলতেই বড় হয়েছি; বাবাও একটু খেলতেন। আমরা সবাই একই ক্লাবে খেলেছি পুরো পথজুড়ে, আর আমরা সবাই এই খেলাটাকে খুব ভালোবাসি। একই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের একই খেলাকে এত ভালোবাসা—এটা খুবই বিরল ঘটনা। কিন্তু আমরা সবাই এতে একসাথে থাকতে পারছি, আর সবাই মিলে খেলতে পারছি— এটাই সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার।'

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম দুইটি টি-টোয়েন্টিতেই একসাথে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা হয়েছে টেক্টর ভাইদের। তারা প্রথম ম্যাচে ২৪ বলে ৩১ রান যোগ করেন। পরের ম্যাচে করেন ৩১ রান মাত্র ২১ বলে। ভাইয়ের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং করাটা বেশ উপভোগ করছেন বলে জানালেন টিম।

তিনি বলেন, 'দেখো, হ্যারির সঙ্গে ব্যাটিং করা নিঃসন্দেহে খুব ভালো লাগে। আমরা ক্লাব ক্রিকেট ও ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে ব্যাটিং করছি, তাই ওর সঙ্গে ব্যাট করতে নেমে খুব আলাদা লাগেনি। অবশ্য এখানে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওর সঙ্গে ব্যাটিং করা একটু বড় ঘটনা, কিন্তু এটা আমার কাছে নতুন কিছু নয়। খুব ভিন্ন লাগেনি— স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।'

 

news