এক সময় ক্রীড়াজগতের আদর্শ পাওয়ার কাপল হিসেবে পরিচিত ছিলেন তারা। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই সবাইকে চমকে দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার মেরি কম। এবার ডিভোর্সের পর প্রাক্তন স্বামী ওনলারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন এই কিংবদন্তি অ্যাথলেট। মেরির দাবি, তাঁর নামে থাকা সব সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন প্রাক্তন স্বামী, এমনকি দেনা শোধ করতে সেগুলো বন্ধক ও বিক্রিও করে দিয়েছেন।
গত বছরের এপ্রিল মাসে আচমকাই গুঞ্জন শুরু হয় মেরি কমের দাম্পত্য জীবন ভাঙার পথে। তবে সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। জল্পনার মাঝেই নিজের আইনজীবীর পাঠানো একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন মেরি। সেখান থেকেই প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ওই চিঠিতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পরিবারের সদস্য ও সমাজের নেতাদের উপস্থিতিতে পারস্পরিক সম্মতিতে মেরি কম ও ওনলারের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। ডিভোর্সের প্রায় দুই বছর পর মেরি স্বীকার করেছেন, স্বামীকে বিশ্বাস করে তিনি জীবনের বড় ভুল করেছিলেন।
মেরি কম বলেন, “যতদিন আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামাইনি, ততদিন সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসের আগে চোট পাওয়ার পর ধীরে ধীরে বুঝতে পারি, আমার সম্পত্তি নিয়ে কী চলছে। ওনলার তখন দেনায় ডুবে গিয়েছিল। আমার সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়। সেগুলো বন্ধক রেখে ধারও করত। দেনা শোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চূড়াচাঁদপুরে আমার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে।”
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেরি কম এখন মনে করছেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে তার মূল্য খুব কম। সব সম্পত্তি হারিয়ে তাঁর অবস্থা কঠিন, তাই শোক করার সুযোগটুকুও নেই। চার সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবার পুরো দায়িত্ব এখন তাঁর একার কাঁধে।
বর্তমানে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আয় করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন মেরি কম। তবুও তিনি প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। মেরির একটাই অনুরোধ, “আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিন।” জীবনের কঠিন লড়াইয়ে টিকে থাকতে এখন ঈশ্বরের কাছেই শক্তি চাইছেন এই অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার।
