২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখনই বড় এক অনিশ্চয়তার মুখে। বাংলাদেশ যদি তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে, তাহলে পাকিস্তানও নিজেদের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপের সব ধরনের প্রস্তুতি কাজ তারা আপাতত স্থগিত রেখেছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
পিসিবির একাধিক সূত্র সোমবার জিও সুপার নিউজকে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে পাকিস্তান। তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে 'যুক্তিসংগত এবং বাস্তবসম্মত' বলে উল্লেখ করেছে। এমনকি বাংলাদেশের সমস্যা সমাধান না হলে পাকিস্তানও নিজেদের অংশগ্রহণ নতুন করে ভাববে বলেও জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান এই ইস্যুতে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের পাশেই আছে। পিসিবির কর্মকর্তারা বাংলাদেশের উদ্বেগকে 'যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
পিসিবি খুব শিগগিরই তাদের দল পরিচালনা বিভাগকে করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির জন্যই এই পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিসিবি জানিয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু না পেলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, পাকিস্তানের সব স্টেডিয়ামই বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও নারী বাছাইপর্ব সফলভাবে আয়োজনের উদাহরণ তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ গ্রুপ পরিবর্তনের জন্য আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অদলবদলের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কা থেকে সরানো হবে না।
অন্যদিকে, আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কে জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করা হবে না। তারা এও জানিয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই। তারপরও বাংলাদেশ না গেলে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২১ জানুয়ারির মধ্যে আসতে পারে। ঢাকায় আইসিসি ও বিসিবির সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিসিবি পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে খেলতে চায়, কিন্তু নিরাপত্তা বিবেচনায় ভারত ছাড়া অন্য কোথাও (শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করে) তাদের ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।