বাংলাদেশকে সামনে রেখে ভারতকে কি কৌশলে চাপে ফেলতে চাইছে পাকিস্তান? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরছে ক্রিকেটপাড়ায়। পাকিস্তানের একটি অংশ থেকে খোলাখুলিভাবেই দাবি উঠেছে—এই সুযোগে পাকিস্তানেরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত। তাদের যুক্তি, এটাই ভারতকে চাপ দেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যদিও অনেকে মনে করছেন, বাস্তবে এমন সিদ্ধান্ত নেবে না পাকিস্তান।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার রশিদ লতিফ প্রকাশ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তাঁর এই আহ্বান। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বলে আগেই জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)—এমনটাই জানিয়েছে আনন্দবাজার।
১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে খেলা রশিদ লতিফের মতে, বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে যে ‘ইকোসিস্টেম’ চলছে, সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সময় এসেছে। ইউটিউব চ্যানেল ‘কট বিহাইন্ড শো’-তে তিনি বলেন, “পাকিস্তান যদি না খেলে, তাহলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই হবে না। এতে বিশ্বকাপের অর্ধেক আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে। বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটাই বড় সুযোগ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানেরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলা উচিত। এখনই সেই অবস্থান নেওয়ার সঠিক সময়। তবে এর জন্য সাহস দরকার।”
রশিদ লতিফ মনে করেন, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সঠিকভাবেই নিয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের দাবি না মেনে আইসিসি ভুল করেছে। ভবিষ্যতের পরিণতি না ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই পাকিস্তানের উচিত বাংলাদেশের পাশে থাকা।
লতিফের ভাষায়, “ট্রাম্প কার্ড এখনও পাকিস্তানের হাতেই। বাংলাদেশের অবস্থান একদম ঠিক। এর চেয়ে ভালো সুযোগ পাকিস্তান আর পাবে না। পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ কার্যত থমকে যাবে। চাবিকাঠি পাকিস্তানের হাতেই। হ্যাঁ, ভবিষ্যতে হয়তো ক্ষতি হবে, আইসিসির নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। কিন্তু এটাই সময়।”
তবে রশিদ লতিফের এই পরামর্শের সঙ্গে একমত নয় পিসিবির একটি অংশ। তাদের মতে, বিশ্বকাপ বয়কট করা হবে চরম ভুল সিদ্ধান্ত। পিসিবির এক সূত্র জানিয়েছে, “বাংলাদেশের অবস্থানকে পাকিস্তান সমর্থন করে। কারণ, ভারতের দাবিতে পাকিস্তানের ম্যাচ দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ একই দাবি করলেও তা মানা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা উচিত, সেটা ভাবা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, আমাদের হাতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ নেই। আমাদের ম্যাচ তো নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কাতেই দিয়েছে আইসিসি।”
এদিকে ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটার মদন লাল সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানের প্ররোচনা রয়েছে। পাকিস্তান ভারতকে হেয় করতেই বাংলাদেশকে সামনে রেখে এই চাপ তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি।