চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে এই বৈশ্বিক আসর বয়কট করতে পারে ইউরোপের কয়েকটি বড় ও প্রভাবশালী দল—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলে।

কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের দেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে প্রকাশ্য আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল দখলের চেষ্টার বিরোধিতা করায় জার্মানিসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই জার্মানিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বয়কটের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় সরকারগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বেশ টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই কিছু রাজনৈতিক মহল, ফুটবল ভক্ত ও ক্রীড়া সংগঠকদের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় দলগুলোকে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান উঠতে শুরু করেছে। তাদের মতে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে।

গত সপ্তাহে দাভোসে বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্ত করতে তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন না। যদিও এর আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমি যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত না নেই, তাহলে আমরা সম্ভবত কিছুই পাবো না।”

উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো-র সদস্য দেশ ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ড। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ন্যাটোর ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তবু গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইউরোপের অনেকেই ট্রাম্পের এই আগ্রহকে ভালো চোখে দেখছেন না।

ফরাসি রাজনীতিক এরিক কোকুয়েরেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন,
“আমরা কি এমন একটি দেশে বিশ্বকাপ খেলতে যাবো, যারা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর আধিপত্য দেখাতে চায়? গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেয়, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে জাতিসংঘকে অকার্যকর করতে চায়। এই প্রশ্ন এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এখনও বিশ্বকাপ মেক্সিকো ও কানাডায় সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”

এই মন্তব্যের পরই গুঞ্জন ছড়ায়, দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স হয়তো বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। তবে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি। তিনি বলেন, “এত বড় ও প্রত্যাশিত একটি ইভেন্ট বয়কট করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপ ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

উল্লেখ্য, ফ্রান্স ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনার কাছে হারে। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপ খেলবে। স্কটিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষও বয়কটের ভাবনায় নেই।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ‘দখলে’ বাধা দেওয়ায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। জুনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি না হলে এই শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকিও দেন তিনি।

এর আগে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার বলেন, ট্রাম্প যদি হুমকি বাস্তবায়ন করে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ান, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৪৭ শতাংশ নাগরিক ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন।

 

Walton Ads