২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটাররা প্রকাশ্যে এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে—পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে খেলবে ঠিকই, টুর্নামেন্ট শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ম্যাচে মাঠে নামবে না।

জিও নিউজকে অবগত সূত্র জানিয়েছে, এর পেছনে মূল কারণ আইসিসির বাংলাদেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। বাংলাদেশ নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখিয়ে ভারতে যেতে রাজি হয়নি। তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর অনুরোধ করেছিল, কিন্তু আইসিসি সেটা খারিজ করে দেয়। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে ঢোকানো হয়।

সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্ত দিয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখাতে চায়। ভারত-পাকিস্তানের আগের সমঝোতা অনুযায়ী, আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টে পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে। এবারও বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা।
আইসিসি পিসিবির কাছে ‘সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খোঁজার আশা প্রকাশ করেছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও বলেছে। কিন্তু এসবের পরও পাকিস্তানে এই সিদ্ধান্তের সমর্থন আরও বেড়েছে।

সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ এক্স-এ লিখেছেন, “সরকারের কঠিন কিন্তু খুব দরকারি সিদ্ধান্ত। বাণিজ্যিক স্বার্থের আগে নীতিকে প্রাধান্য দিতে হয়। বিশ্ব ক্রিকেটে বেছে বেছে প্রভাব খাটানো বন্ধ না হলে খেলাটা কখনো সত্যিকারের বৈশ্বিক হবে না।”
পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ আইসিসির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “আইসিসি এখন ক্রিকেটের পরিবেশ রক্ষার কথা বলছে। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ না খেললে আইসিসি কোথায় ছিল? ২০০৩ সালে ইংল্যান্ড হারারে যায়নি, নিউজিল্যান্ড নাইরোবি যায়নি। আইসিসিকে বুঝতে হবে, তারা এখন চেকমেট হয়েছে।”
পাকিস্তানের টেস্ট ব্যাটার আবিদ আলি বলেন, এখানে জাতীয় সম্মান ও গৌরবই সবচেয়ে বড়।
বিশ্লেষক ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার সিকান্দার বখত জিও নিউজকে বলেন, “একটা দারুণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেখুন, ভারত সারা বিশ্বের সঙ্গে হাত মেলায়, কিন্তু আমাদের সঙ্গে নয়। ভারত সবার কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি, কিন্তু পাকিস্তানের কাছ থেকে নয়।”

তিনি ২০২৫ এশিয়া কাপের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, তখন এসিসির সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত।
বখত আরও বলেন, “ওরা যখন এমন করতে পারে, তখন আমরাও পারি। আমরা সারা বিশ্বের সঙ্গে ক্রিকেট খেলব, কিন্তু ভারতের সঙ্গে নয়। এই সিদ্ধান্ত অনূর্ধ্ব-১৯ ও নারী দলের ক্ষেত্রেও হওয়া উচিত।”

 

Walton Ads