গত ডিসেম্বরে আইপিএলের নিলাম থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
কিন্তু ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকি এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বিসিসিআই মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়।
ভারত আইপিএলে মোস্তাফিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায়, ৭ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল, টিম অফিসিয়াল, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে বাংলাদেশ চেয়েছিল শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার, পাকিস্তানের মতো।
তবে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ভারতে না গেলে বাংলাদেশ বাদ পড়বে।
আইসিসির এই দ্বিমুখী নীতি ও আচরণের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে।
শুরুর দিক থেকেই বাংলাদেশ দলের ভেন্যু পরিবর্তন ইস্যুতে পাকিস্তান সমর্থন করেছে।
আইসিসির বিভিন্ন বোর্ডের সভায় ভোটাভুটি হয়, যেখানে একমাত্র পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশ দলের পক্ষে ভোট দেয়।
ফলে আইসিসি মৃদু হলেও পাকিস্তানের পক্ষে চক্ষুশূল হয়ে পড়ে।
পাকিস্তান শুধু বাংলাদেশ দলের পক্ষে ভোটই দেয়নি, বিশ্বকাপ বর্জনও চেয়েছিল।
কিন্তু বয়কট করলে দেশের জন্য চরম ঝুঁকি থাকায়, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছে।
পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লিখেছেন, “সরকারের জন্য এটি কঠিন হলেও দরকারি ছিল। বাণিজ্যিক স্বার্থের আগে মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ব ক্রিকেটে যে সুবিধাবাদী প্রভাব কাজ করছে, তা বন্ধ না হলে ক্রিকেট কখনও সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক হতে পারবে না। আমরা গর্বের সঙ্গে খেলি, পাশাপাশি খেলাধুলায় সমতা ও ন্যায়ের পক্ষেও দাঁড়াই।”
এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর ইউসুফ লিখেছিলেন,
“এই খেলা (ক্রিকেট) দর্শকদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে উপেক্ষা করা আইসিসির ন্যায়ের প্রশ্ন তোলে। যখন সুবিধা বেছে দেওয়া হয়, ন্যায়ের মান হারিয়ে যায়। ক্রিকেটকে প্রভাব নয়, নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।”
